রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, ধস্তাধস্তিতে আহত ৮

WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২৬ অপরাহ্ন
WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২৬ অপরাহ্ন
রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, ধস্তাধস্তিতে আহত ৮
রাবিতে দিনভর উত্তেজনা, ধস্তাধস্তিতে আহত ৮

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাবি শাখা ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি ও পরবর্তী ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাবি ক্যাম্পাস। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন, ছাত্রশিবির ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের কয়েক দফায় ধস্তাধস্তি হয়।

রাকসু নির্বাচনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সকাল ৯টা থেকল রাবি শাখা ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ফটকে তালা মেরে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এঘটনা ঘটে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ছাত্রদল। আর সকাল ১০টা থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়। সোয়া ১০টার দিকে ছাত্রদলের কিছু কর্মী কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বারান্দায় থাকা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে ফেলে এবং একটি টেবিল উল্টে দেয়। ওই টেবিলের পাশে বসেই মনোনয়ন পত্র বিতরণ করতেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

এরপর ফটকে তালা মেরে দেয় তারা। দুপুর ১টার দিকে তালা ভেঙে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন ও শিবিরের কিছু সমর্থকসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর ২টার দিকে পুনরায় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়।

কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যরা ছাত্রদলের দেওয়া তালা ভেঙে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহের রহমান, মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হাসিম রানা ও ছাত্রদলের পক্ষে বিক্ষোভে সমাবেশে আসা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহির এবং ছাত্রশিবিরের কর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম শহীদ, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপার্সন মনিরুল ইসলামসহ অন্তত ৮জন আহত হন।

রাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকায় প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা সভা থেকে ওয়াকআউট করেছে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ৬টি সংগঠন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার পর সোয়া ছয়টার দিকে আলোচনার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সভাটি বর্জন করে সংগঠনগুলো।
ছাত্রদলের করা প্রথমবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের রাকসুর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিষয়ে সকল প্রার্থীদের মতামত নিতে সিনেট ভবনে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শুরু হওয়ার পর কয়েকবার স্লোগান দেন সভাস্থলে উপস্থিত ছাত্রনেতাদের একাংশ। একপর্যায়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ও শাখা ছাত্র মিশনের সভাপতি জি এ সাব্বির বক্তব্য রাখতে গেলে প্রতিবাদ জানায় বামপন্থীরা। এতে কমিশনের প্রতি অভিযোগ জানিয়ে সভা কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করে তারা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন পাকিস্তান দূতাবাস ও মগবাজার থেকে পরিচালিত হয়। তারা আলোচনার জন্য ডেকেছেন পাকিস্তানপন্থী ও আমার ভাইদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত নেতাদের। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হতে পারে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী যারা আছি, তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরাও ওয়াকআউট আউট করলাম।’

কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ওয়াক আউট করলে আলোচনা চালিয়ে যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আলোচনা সভায় সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, এর আগে নির্বাচনের তারিখ দুইবার পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ২৫ তারিখেই নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের তারিখ ঠিক রেখে যাকেই যুক্ত করা হোক আমার সমস্যা নেই। তবে ২৫ সেপ্টেম্বরই নির্বাচন হতে হবে।

সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে, এটা চূড়ান্ত। নির্বাচন ছাত্রদের তারা যেভাবে চাইবে আমরা সেভাবেই নির্বাচন আয়োজন করব। আইন অনুযায়ী যতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব আমরা সবই করব। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট ও প্যারিস রোডে ৩ দফায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাদের ওপর ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্যের’ ব্যানারে হামলা করা হয়। এ হামলা অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে।