রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাকসু নির্বাচনের আলোচনা সভা থেকে ছাত্রদলসহ ৮টি সংগঠনের ওয়াকআউট

WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২২ অপরাহ্ন
রাকসু নির্বাচনের আলোচনা সভা থেকে ছাত্রদলসহ ৮টি সংগঠনের ওয়াকআউট
রাকসু নির্বাচনের আলোচনা সভা থেকে ছাত্রদলসহ ৮টি সংগঠনের ওয়াকআউট

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা সভা থেকে ওয়াকআউট করেছে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার পর সোয়া ছয়টার দিকে আলোচনার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সভাটি বর্জন করে সংগঠনগুলো।

জানা যায়, ছাত্রদলের করা প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের রাকসু’র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিষয়ে সকল প্রার্থীদের মতামত নিতে সিনেট ভবনে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শুরু হওয়ার পর কয়েকবার স্লোগান দেন সভাস্থলে উপস্থিত ছাত্রনেতাদের একাংশ। একপর্যায়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ও শাখা ছাত্র মিশনের সভাপতি জি এ সাব্বির বক্তব্য রাখতে গেলে প্রতিবাদ জানায় বামপন্থীরা। এতে কমিশনের প্রতি অভিযোগ জানিয়ে সভা কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করে তাঁরা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন পাকিস্তান দূতাবাস ও মগবাজার থেকে পরিচালিত হয়। তারা আলোচনার জন্য ডেকেছেন পাকিস্তানপন্থী ও আমার ভাইদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত নেতাদের। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হতে পারে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী যারা আছি, তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরাও ওয়াকআউট আউট করলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আলিফ বলেন, ‘আজকের আলোচনায় ডাকা হয়েছে গত ২৭ মে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে তাদেরকে। আমরা একাধিকবার সেই হামলার বিচার চেয়েছি। তাদের বিচারের বদলে আমাদেরকে তাদের সঙ্গে হাউজ শেয়ার করতে ডাকা হয়েছে। আমরা এটা করতে পারিনা।’
ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ বলেন, ‘সভায় কয়েকটি সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও আমাদেরকে সভায় কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের সহচর ছিলেন আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ওয়াক আউট করছি।’

কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ওয়াক আউট করলে আলোচনা চালিয়ে যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আলোচনা সভায় সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, এর আগে নির্বাচনের তারিখ দুইবার পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ২৫ তারিখেই নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের তারিখ ঠিক রেখে যাকেই যুক্ত করা হোক আমার সমস্যা নেই। তবে ২৫ সেপ্টেম্বরই নির্বাচন হতে হবে।
আরেক সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আজকে যারা ভোটাধিকার চেয়ে কর্মসূচি করেছে তাদেরই ভোটাধিকার নেই। এখানে যারা প্রার্থী তাদের ডাকা হয়ে তবে প্রার্থীদের বাইরেও অনেককে ডাকা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।’

সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে, এটা চূড়ান্ত। নির্বাচন ছাত্রদের তারা যেভাবে চাইবে আমরা সেভাবেই নির্বাচন আয়োজন করব। আইন অনুযায়ী যতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব আমরা সবই করব। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট ও প্যারিস রোডে ৩ দফায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাদের ওপর ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্যের’ ব্যানারে হামলা করা হয়। এ হামলা অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে।