মেয়েদের হলের সামনে আড্ডা: শিক্ষার্থীকে মাদকাসক্ত বলায় সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

রাবি প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কিছু শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
রাবি প্রতিবেদক :
মেয়েদের হলের সামনে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একজন সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে বেয়াদব ও মাদকাসক্ত বলে ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী। শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে বাংলা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করলে বিক্ষোভ সমাবেশ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় তাঁরা ‘তুমি কে আমি কে, মাদকাসক্ত মাদকাসক্ত’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, প্রক্টর প্রক্টর’, ‘প্রক্টরের গুণ্ডামি, এই ক্যাম্পাসে চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এঘটনায় অভিযোগকারী হলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম মুন্তাসির রাফিন। অভিযুক্ত সহকারী প্রক্টরের নাম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তাঁর সাথে এসময় আরো দুইজন সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে জানান অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। তবে, তাদের নাম তিনি বলতে পারেননি।
অভিযোগকারীদের একজন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম মুন্তাসির রাফিন বলেন, জুলাই ৩৬ হলের সামনে আমাদের বসে থাকতে দেখে সহকারী প্রক্টর স্যার কারণ জিজ্ঞেস করলে আমরা জানাই একটা জরুরি বিষয় নিয়ে আপুদের সাথে আলাপ করতে এসেছি৷
তারপর তাদের সামনে আলাপ শেষ করতে বলেন তিনি৷ আমরা বলি, এমনতো কোনাে নিয়ম নাই যে রাত এতাটার পরে পশ্চিম পাড়া আসা যাবে না৷ একপর্যায়ে তিনি আমাদেরকে বেয়াদব বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন আমরা কেন একজন শিক্ষকের কাছে আইন জানতে চাচ্ছি৷
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে পুলিশ ডেকে আমাকে অপমান করেন এবং আমার আইডি কার্ড তল্লাশি, ছাত্রত্ব বাতিল এবং হ্যান্ডকাফ পরে মতিহার থানায় নিয়ে যেতে বলেন৷ চলে আসার সময় সহকারী প্রক্টর স্যার আমাকে মাদকাসক্ত বলেন এবং বলেন ডোপ টেস্ট করলে নাকি আমার পজেটিভ হবে৷ অথচ আমি কোনোদিন সিগারেট-ই খাইনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। আমার প্রক্টরিয়াল টিমের যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। শিক্ষার্থীরা আমার কথা মেনে নিয়েছে।