বাইরের বিশেষজ্ঞ নয়, অঞ্চলভিত্তিক কৃষি গবেষকদের ওপর নির্ভর করতে চাই : কৃষি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেছেন, আমরা বাইরের বিশেষজ্ঞদের উপর নির্ভর করতে চাই না। বরং আমাদের অঞ্চলভিত্তিক যে কৃষি গবেষক ও কর্মকর্তা আছেন তাদের উপর নির্ভর করতে চাই। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কোন অঞ্চলে কোন ফসল ফলানো সম্ভব।
আঞ্চলিক তথ্য অফিসের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজশাহী পিটিআই মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক-২০৫০’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমদাদ উল্লাহ বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের জানাবে কোন অঞ্চলে, কীভাবে, কোন ফসল ফলাতে হবে। যদি সারা দেশে আলুর উৎপাদন বেশি হয় তাহলে কৃষকের লাভ হবে না। এর বিপরীতে পেঁয়াজ উৎপাদন করলে কৃষক লাভবান হতে পারে সেটা তাকে বুঝাতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে আলু চাষে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং পেঁয়াজ চাষে আগ্রহীদের প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ভূগর্ভের পানির স্তর কমে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র এলাকা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন আমাদের পানি সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদনের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসলজনিত ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি আলু, আমের একমুখী উৎপাদনের পরিবর্তে কৃষকদের প্রয়োজনে প্রণোদনা নিশ্চিত করে বহুমখী ফসল সারা বছরব্যাপি উৎপাদনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আগামী ২৫ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে মাইলফলক হবে বলে তিনি জানান। ওয়ার্কশপে আগত সব ধরনের সুবিধাভোগীর মতামত গ্রহণ করা হয়।
কৃষি সচিব বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছরের একটি লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করবে। আমরা অধিদফতরগুলোর সাথে বসেছি, অংশীজনদের কাছে যাচ্ছি। সবার মতামত ও সুপারিশের আলোকে লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হবে এবং সেই লক্ষ্যমাত্রা ধরে আমরা এগোবো।
নতুন সরকারের সময় অনেক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার ফলে দেশের অনেক ক্ষতি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়। পরবর্তী সরকার আসলে সেটা যেন পরিবর্তন না করে। এক্ষেত্রে তিনি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের উপর নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
আমরা দেশের মানুষ এবং জীবজন্তুর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে চাই মন্তব্য করে কৃষি সচিব বলেন, এ লক্ষ্যে যখন যে আধুনিক প্রযুক্তি আসে আমরা সেটা ব্যবহার করবো। কৃষি বিষয়ক অনেক অ্যাপ হয়েছে, এই অ্যাপগুলো সমন্বিত করে আমরা একটি নতুন অ্যাপ তৈরি করতে চাই। আমরা যে নতুন অ্যাপটি চিন্তা করেছি তার নাম হলো ‘খামারি অ্যাপ’। এর মাধ্যমে প্রায় নব্বইটি সেবা দেওয়া যাবে।
এসময় তিনি দেশের স্বার্থে ও কৃষির স্বার্থে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের নির্ভয়ে নিজস্ব মতামত পেশ করতে আহ্বান জানান।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন কৃষি দফতরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।