‘পেশিশক্তির ছাত্র সংগঠনগুলোকে সুবিধা দিতেই রাকসু নির্বাচন পিছানোর পাঁয়তারা হচ্ছে’

রাবি প্রতিবেদক:
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট রাবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদুল ইসলাম ভুইয়া রাতুল বলেছেন, পেশি শক্তির ছাত্র সংগঠনগুলোকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই রাকসু পেছানোর পায়তারা করা হচ্ছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে রাকসুর ভোট গ্রহণের তারিখ পেছানো এবং ষষ্ঠী পূজার দিন ভোটের তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফুয়াদুল ইসলাম ভুইয়া রাতুল বলেন, পুজার মধ্যে রাকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সনাতনী শিক্ষার্থীরা সেদিন উৎসব ফেলে রাকসুতে ভোট দিতে আসবে না। এই ক্যাম্পাসে একটি পেশি শক্তির গোষ্ঠী আছে যারা নামে বেনামে অর্থ খরচ করে। যারা জোর করে রাকসুকে নিজের আয়ত্তে আনতে চায়। তারা জানে, সনাতনী শিক্ষার্থীরা তাদের ভোট দিবে না। এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীটি চায় না, সনাতনী শিক্ষার্থীরা রাকসুতে থাকুক। আমরা মনে করি, প্রশাসন তাদের হয়ে সনাতনী শিক্ষার্থীদের আলাদা করা জন্য ওই দিন তারিখ ঘোষণা করেছে।
বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের আয়োজনে কর্মসূচিতে তিনি আরো বলেন, যখন ১৫ তারিখে রাকসু হওয়ার কথা ছিলো তখন, আরেকটি পেশি শক্তির দলের কথা মতো রাকসুর মনোনয়ন সংগ্রহের তারিখ পেছায় নির্বাচন কমিশন। এই যে, রাকসু পেছানোর পায়তারা যা, পেশি শক্তির ছাত্র সংগঠনগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্যই।
ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, যখন তফশিল ঘোষণা করা হয় তখন নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী নির্বাচনী সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন তাদের কথা রাখতে পারে নি। কিছুদিন আগে একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের তারিখ পেছানো হয়। আবার আজ নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে পূজার দিনে করা হয়েছে। এটিও একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ায় পায়তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষান করছি।
এসময় তারা দুইটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- পূর্বনির্ধারিত ১৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন দিতে হবে; যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো একটি দিনে হতে হবে।
উল্লেখ্য, রাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে পূর্বনির্ধারিত সময়ের ১৩ দিন পর আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।