নাটোরে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এক হাজার পাটের ব্যাগ বিতরণ

নাটোর প্রতিনিধি:
পাট বাংলাদেশের একটি অর্থকরী ফসল। পাট ও পাটপণ্য শুধু পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পচনশীলই নয়, এটি পরিবেশে রাখে বিরাট অবদান। তাই পাটের ব্যাগ ব্যবহারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে নাটোর জেলা প্রশাসকের আয়োজনের পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
“পলিব্যাগ পরিহার করি, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহার করি”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শহরের নিচাবাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক হাজার পাটের ব্যাগ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা খাতুন, নিচাবাজার ব্যবসায়ী ইউনিটির সভাপতি সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ উদ্দিন শাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পলিথিনের উৎপাদন শুরু হয়। পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।পর্যায় ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে বড় বড় বাজারে পাটের ব্যাগ বিতরন করা হবে।
এছারা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক টন পাট থেকে তৈরি থলে বা বস্তা পোড়ালে বাতাসে ২ গিগা জুল তাপ এবং ১৫০ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে এক টন পলিথিন ব্যাগ পোড়ালে বাতাসে ৬৩ গিগা জুল তাপ এবং ১৩৪০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা ওয়াসার মতে, শুধু ঢাকায় ১০০ কোটি পলিথিন ব্যাগ ভূপৃষ্ঠের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে মাটির নিচেও সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন স্তর, যা ভূপৃষ্ঠে স্বাভাবিক পানি ও অক্সিজেন প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে জমির শস্য উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করছে।
একই সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করে তোলার নেপথ্যে রয়েছে পলিথিনের অবদান, যা থেকে ভূমিকম্প, বজ্রপাত, আল্ট্রা ভায়োলেট রেডিয়েশনের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ক্ষতির বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্যশস্য ও চিনি মোড়কীকরণ করার জন্য পরিবেশবান্ধব পাটের বস্তা বা থলে ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
র্বমানে আমাদের দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়, তার পুরোটা এ খাতে বিনিয়োগ করলে তা বিশ্ব চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ পূরণ করা সম্ভব। অভ্যন্তরীণভাবে পাট আঁশের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির পাশাপাশি পতিত জমিও পাট চাষের আওতায় এনে পাট খাতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি সম্ভব হবে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যাগ বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন পাটের এই প্রাকৃতিক পলিব্যাগ বিশ্বের পরিবেশদূষণ কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।