রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

জামিন পেলেন যুবলীগ নেতা বাপ্পি

WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
জামিন পেলেন যুবলীগ নেতা বাপ্পি
জামিন পেলেন যুবলীগ নেতা বাপ্পি

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে যুবলীগ নেতা বাপ্পি চৌধুরী রনি (৩৬) জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়েছে। তার জামিনের খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। তারা রনিকে পুনরায় গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিতে তারা মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন।

বাপ্পি চৌধুরী রনি নগরীর পুলিশ লাইন ভেড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। গেল বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন তাকে বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে দুটি হত্যাসহ তিনটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো এখনও তদন্ত পর্যায়ে আছে।

এছাড়া রনির ব্যাপারে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ২ আগস্ট রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে তিনি বাপ্পি চৌধুরী রনির স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদের হিসাব জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে রনির বিরুদ্ধে এ সংস্থায় তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলার সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে এবং জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে রনির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করার দুদিন পর ৪ আগস্ট দুটি হত্যা মামলাসহ মোট তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান রনি। পরে ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জুলাইযোদ্ধারা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের রাজশাহী জেলা শাখার পক্ষ থেকে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলার আহ্বায়ক রাকিব হোসেন, সদস্যসচিব তামিম মো. তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর মাহাতাব প্রমুখ। তারা বলেন, দাগি আসামির জামিন হলে সেদিকে খোঁজ রাখার কথা গোয়েন্দা সংস্থার। কিন্তু রনির ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন কর্মকর্তা এবং কারা কর্তৃপক্ষÑসবাই বিষয়টি গোপন করে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে।

বক্তারা বলেন, তারা দেশের জন্য আন্দোলনে গিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনে এই অস্ত্রধারী রনি গুলি চালিয়েছিলেন। এখন তিনি মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা এখন উৎকণ্ঠায় আছেন। প্রশাসন তাদের ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাদের ওপর যদি আবার আক্রমণ হয় তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে রনিকে ফের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, যুবলীগ নেতা রনির বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা ছিল ২০০৯ সালের। রনি জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, আদালত থেকে জামিনের কাগজপত্র এলে আমরা কাউকে আটকে রাখার ক্ষমতা রাখি না। জামিন পেয়ে সে চলে গেছে।