রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়

WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ০৯:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ০৯:০৫ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়
রাজশাহীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন- সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত মানবাধিকারকর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে একটি নেটওয়ার্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কর্মীরা একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজশাহী নগরীর সেফ গার্ডেন রেস্টুরেন্টে ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক সভা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা (বিইউপি)।
অনুষ্ঠানে বিইউপি’র নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোছা. শামসুন্নাহার খাতুন। তিনি বলেন, “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল আইন বা নীতি দিয়ে সম্ভব নয়, এর জন্য সামাজিক সচেতনতা জরুরি। দেশের তরুণ সমাজকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে পারলে একটি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো যেভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে, তাদের এই সমন্বিত নেটওয়ার্ক মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে আমাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল থাকে। কিন্তু আমরা যখন একটি নেটওয়ার্কের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হব, তখন যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। আজকের এই সভা রাজশাহীতে মানবাধিকার সুরক্ষার আন্দোলনে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করল।”
বিইউপি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, নগর সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মমিন, রুরাল আন্ডারপ্রিভিলেজড ল্যান্ডলেস ফার্মার অর্গানাইজেশন (রুলফাও) এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন এবং অনগ্রসর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও প্রমুখ।

সভার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে রাজশাহীর বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। এনজিও’র সভাপতি এভারেস্ট হেমব্রম আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানান। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সাগরিকা সরকার বলেন, নারী নির্যাতন মামলায় ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত বিচার পান এবং সামাজিকভাবে হেয় না হন, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী, এনজিও নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, দুস্থ মহিলা কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী রহিমা খাতুন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।