রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলের ৪৭টি ইউনিয়ন অতিউচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা

WP Import ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৫ অপরাহ্ন
WP Import ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৫ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলের ৪৭টি ইউনিয়ন অতিউচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা
রাজশাহী অঞ্চলের ৪৭টি ইউনিয়ন অতিউচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৪৭টি ইউনিয়নকে অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাকে পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। পানি আইনের আওতায় দেশে প্রথমবারের মত চার জেলার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এর ১৭ ও ১৯ ধারার আলোকে বিস্তারিত জরিপ ও অনুসন্ধান শেষে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের (৪,৯১১টি মৌজা) মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে (১,৫০৩টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পানি আইন অনুযায়ী, এসব এলাকায় পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং সুপেয় পানি এবং গৃহস্থালির কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী এক মাসের মধ্যে করণীয় চূড়ান্ত করবে একটি কমিটি। রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার গ্রিন রোডে ওয়ারপো ভবনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির অষ্টাদশ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় শিল্পখাতে পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘পানি ব্যবস্থাপনা নীতি ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাহী কমিটির সভায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জলাভূমি-টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই সুরক্ষা আদেশের অধীনে হাওর দুটিতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে করনীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় পানি আইন, ২০১৩ এর দুর্বল কার্যকারিতার ওপর আলোকপাত করে আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

সভায় জাতীয় পানিসম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির শিল্প খাতে পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘পানি ব্যবস্থাপনা নীতি ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সভায় পানির প্রাপ্যতা যাচাই করতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালানোর সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ৫০ জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা যাচাইয়ে যে কার্যক্রম চলমান, তা বাকি ১৪টি জেলাতে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।
নির্বাহী কমিটির সভাপতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৪৭টি ইউনিয়নের মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী, গোগ্রাম, মাটিকাটা, রিশিকুল, পাকড়ি ও মোহনপুর ইউনিয়ন আছে। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর, বাধাইড়, তালন্দ, কলমা ও সরনজাই ইউনিয়নে অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা ধরা হয়েছে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের তিনটি ইউনিয়ন, নাচোল উপজেলার সব ইউনিয়ন, গোমস্তাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন আছে। নওগাঁ জেলার পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলার সব ইউনিয়ন এই তালিকায় আছে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলাজুড়ে ‘উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানি পরিস্থিতির হাইড্রোলজিক্যাল অনুসন্ধান ও মডেলিং’ জরিপ ও অনুসন্ধান চালানো হয় ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে। এই গবেষণার অধীনে তিন জেলার ২৫টি উপজেলায় চালানো হয় সমীক্ষা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বাড়ছে পানি সংকটাপন্ন এলাকা। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ২৬ ফুট নিচে। সে সময় সর্বোচ্চ তানোরে পানির স্তর নেমেছিল ৬৮ ফুট গভীরে। খাবার পানি, সেচ, মাছ চাষের মতো বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় ২০১০ সালে পানির ভূগর্ভস্থ পানির জন্য গড়ে ৫০ ফুট গভীরে নলকূপ বসাতে হতো।

গবেষণার তথ্য বলছে, ২০২১ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের গড় আরও নিচে নেমে দাঁড়ায় ৬০ ফুটে। একই বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের একটি স্থানে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির নিচে পানি নেমে যায় ১৫৩ ফুট গভীরে। গত বছর এই পানির স্তর ১৬০ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমেছিল।
এ অঞ্চলের ২১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮৭টি ইউনিয়ন অতি উচ্চ ও উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা বলা হয়। পানির স্তর সবচেয়ে বেশি নেমেছে পোরশার ছয়টি ও নাচোলের চারটি ইউনিয়নে। অতি উচ্চ পানি সংকটে রয়েছে গোদাগাড়ী, তানোর, গোমস্তাপুর, নিয়ামতপুর ও সাপাহারসহ ৯ উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়ন। গবেষণায় ৪০টি ইউনিয়নকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ ও ৬৫টি ইউনিয়নকে ‘মাঝারি পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেন গবেষকরা।