রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নেই হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নেই হাসপাতালে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক রোগের  ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক রোগী হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর ফার্মেসিগুলোতেও একই পরিস্থিতি; কোথাও মিলছে না ভ্যাকসিন। 


রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক  হাসপাতালে নিয়মিত বিনামূল্যে জলাতঙ্ক  রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। তবে গত ২১ দিন ধরে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে পাচ্ছে না রোগীরা। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেয়। সেই হিসাব করলে প্রতিমাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পিস ভ্যাকসিন রোগীদের জন্য প্রয়োজন হয়। 


তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন- কুকুরের সুনির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম নেই। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ঋতু নেই, অনেক জায়গায় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসকে (আগস্ট-অক্টোবর) কুকুরের প্রজননের জন্য বেশি সক্রিয় সময় হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে কুকুর বাচ্চা প্রসব করেছে। এই কারণে তাদের বাচ্চাদের রক্ষায় তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় কুকুর তেড়ে এসে কামড় দেয়। এমন ঘটনা আহরহ ঘটছে। তাই সরকারিভাবে দ্রুত এ ভ্যাকসিনের সরবরাহ করা জরুরি। 


রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের অভাব। মানুষরা হাসপাতালেও ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরের ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। 


রামেক হাসপাতালকে কেন্দ্র করে নগরীর লক্ষ্মীপুরে গড়ে উঠেছে ওষুধের ফার্মেসি। নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার ওষুধের বেশকিছু ফার্মেসিতে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। তবে ঔশী ফার্মেসির এক বিক্রেতা বলেন- শুনলাম হাসপাতালেও নেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। প্রতিদিন প্রচুর রোগী এসে খুঁজছে ভ্যাকসিন। 


দামের বিষয়ে জামতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের এক ভাওয়ালের দাম ৪০০ টাকা। তবে এটি কথা পাওয়া যাচ্ছে না। এখন দামের বিষয়ে বলতে পারছি না। আমরা কোম্পানিতে জানাচ্ছি, সেখান থেকেও আসছে না। 


নগরীর কুখুন্ডি বুধপাড়া এলাকায় কুদ্দুস আলীর মেয়েকে কুকুরে কামড় দেয় দুই সপ্তাহ আগে। তিনি দুই ডোজ হাসপাতাল থেকে পেয়েছেন। বাইরে থেকে তিনি এক ডোজ দিয়েছেন। তিনি বলেন- ‘আরেক ডোজ দেওয়ার ডেট রয়েছে শনিবার। কিন্তু শুনলাম জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাক, কী করা যায়।’


বুধবার (৭ জানুয়ারি) কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন আলী হোসেন (১৮)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিনি রামেক হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসেন। কিন্তু বিনামূল্যে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় বাইরের ওষুধের ফার্মেসিতে খোঁজ করেন। কিন্তু তিনি সেখানেও পাননি। 


আলী হোসেন বলেন, হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। কিন্তু এসে শুনি সরবরাহ নেই। কাছে টাকা ছিল না, বাড়িতে ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিলাম। কিন্তু ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। 


এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আমরা চিঠি প্রেরণ করেছি। কিছু সময় তারা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ভ্যাকসিন দিয়েছি, কিছু সময় দিতে পারেনি। গত তিন সপ্তাহ (২১ দিন) থেকে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবারহ নেই। প্রতিদিন হাসপাতালের চাহিদা ২৭০ থেকে ২৮০ টি ভ্যাকসিনের।


এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাফরুল হোসেন বলেন- শুধু রাজশাহী নয়, সারাদেশে একই অবস্থা। আমরা এটা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।