রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

আর্মি থেকে সাসপেন্ড হয়ে আনসার হিসেবে অবসর, তিনি কিংবদন্তি অভিনেতাও

সোনার দেশ ডেস্ক ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন বিনোদন
সোনার দেশ ডেস্ক ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন
আর্মি থেকে সাসপেন্ড হয়ে আনসার হিসেবে অবসর, তিনি কিংবদন্তি অভিনেতাও

ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের নাম করা নায়ক খলিল উল্লাহ খান। সবার কাছে তিনি অভিনেতা খলিল হিসেবেই সমাদৃত। ভরাট কণ্ঠের দুর্দান্ত এক অভিনেতা ছিলেন তিনি। যখন যে চরিত্র করেছেন সেখানেই রেখেছেন দ্রুপদী কাজের ছাপ। সেসব গুণই তাকে সময়ের স্রোতেও চিরউজ্জ্বল করে রেখেছে। তার কীর্তি ও কাজ আজও দর্শকের মনের মণিকোঠায় বেঁচে আছে স্বমহিমায়।

এই কিংবদন্তির আজ জন্মদিন। ১৯৩৪ সালের এই দিনে ভারতের মেদিনীপুরে জন্ম নেন খলিল। ছোটবেলা থেকে তিনি এক অনন্য যাত্রার স্বাক্ষী। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার কারণে শৈশব কেটেছে সিলেট, কৃষ্ণনগর, বগুড়া ও নোয়াখালীতে। সেখানেই মদনমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে খলিল উল্লাহ খান আর্মিতে যোগ দেন। ১৯৫২ সালে আনসারের এডজুট্যান্ট হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের সাসপেন্ডের পর ১৯৯২ সালে আনসার থেকে অবসর নেন।

খলিলের অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু হয় টেলিভিশনের নাটক দিয়ে। নাটকের পর সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৫৯ সালে কলিম শরাফী ও জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সোনার কাজল’ ছিল তার প্রথম সিনেমা। এরপর তিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন একের পর এক সফল ছবির মাধ্যমে। তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘পুনম কি রাত’, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’, ‘উলঝান’, ‘সমাপ্তি’, ‘নদের চাঁদ’, ‘বেঈমান’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘আয়না’, ‘মধুমতি’, ‘ওয়াদা’, ‘ভাই ভাই’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘মাটির পুতুল’, ‘অভিযান’, ‘কার বউ’, ‘দিদার’, ‘আওয়াজ’, ‘নবাব সিরাজউদ দৌলা’ এবং ‘ভণ্ড’সহ অসংখ্য সিনেমার স্বর্ণালী তালিকা।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে খলিল উল্লাহ খান ‘গুণ্ডা’ সিনেমার জন্য বিশেষ সম্মান অর্জন করেন। শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবেও তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

খলিলের অভিনয়, নৈতিকতা এবং শিল্পীসত্তার প্রতি নিষ্ঠা আজও প্রেরণা। তার মতো শিল্পী শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, আমাদের সংস্কৃতি ও স্মৃতির পাতায় চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি। কিন্তু তার অবদান, গৌরব এবং স্মৃতি আজও আমাদের মনে গেঁথে আছে।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ