শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬

সাবেক ২ উপাচার্যের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য অর্থ-সহায়তা চাইলেন রাবি শিক্ষক

রাবি প্রতিবেদক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ন
সাবেক ২ উপাচার্যের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য অর্থ-সহায়তা চাইলেন রাবি শিক্ষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক দুই উপাচার্যসহ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক ড. আলী আজগর শান্ত। তিনি রাবি’র ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা এক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। একসাথে নিজের চিকিৎসার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অর্থ-সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ওই পোস্টে অধ্যাপক ড. আলী আজগর শান্ত লিখেছেন, এই লেখাটি আমার জন্য লজ্জাজনক। আর্থিক সংকটে যথাসময়ে চিকিৎসা করতে না পারায়, গত ১৫ জানুয়ারি আমার ২৩ বছর বয়সী আইবিএ তে পড়ুয়া পুত্র মারা গেছে। আমার নিজের বেঁচে থাকতে আগ্রহ নাই। আমার ১২ বছর বয়সী একজন কন্যার ভবিষ্যৎ ভেবে দুশ্চিন্তায় বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। 

সাবেক দুই উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করে তার মেয়ে জামাতাকে শিক্ষক নিয়োগ দিলে, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে লিখিত অভিযোগ করি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আমি ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের টাকায় করোনার মধ্যে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে ঢাকা গিয়ে অন্য তিন জন শিক্ষকের সহযোগিতায় অনিয়ম প্রমাণ করে দেই। ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন বছর সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি লিখেছেন, প্রফেসর আব্দুস সোবহান আমার ওপর অপবাদ চাপিয়ে আমাকে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি নিয়োগ না দেওয়ায়, আমি অপবাদ মিথ্যা প্রমাণ করতে হাইকোর্টে রীট পিটিশন করে আমি জয়লাভ করার পরে, পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তারের সাথে আপোষ না করায় আমাকে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি নিয়োগ না দিয়ে আপিল করে, যা বিচারাধীন।

তিনি আরও লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাইকোর্ট রায়ের পরে কোন উপাচার্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কখনও আপিল করেন নি। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের লড়াইয়ে আমার বিপুল অংকের টাকা খরচ হয়েছে, অপবাদ ঘোচাতে। আমার সম্প্রতি মৃত পুত্র আট বছর যাবত ভারতে তিন বার অপারেশন সহ চারবার ভারতে যাওয়া এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে স্কয়ার হসপিটালের আইসিইউ ও কেবিনে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে আমার পুত্রের চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, আমি হতভাগা পিতা আর্থিক সংকটে পারিনি। আমার পুত্র মারা গেছে। 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিলে প্রতিমাসে আমি ও অন্যান্য শিক্ষকগণ দুইশত টাকা চাঁদা দেওয়া সহ আমি অনেক শিক্ষকের চিকিৎসায় চাকরি জীবনে লক্ষাধিক টাকা ডোনেশন দেওয়া সত্ত্বেও, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ওমর ফারুক সরকার উভয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তারের ঘনিষ্ঠ মানুষ হওয়ায়, নিয়ম ও চর্চা থাকা সত্ত্বেও আমার প্রতি আক্রোশ বশত আমাকে আমার হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য কোন টাকা না দিয়ে, তাদের পছন্দের একজন অসুস্থ শিক্ষককে আমার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের অগোচরে ও অসম্মতিতে একইসময়ে অবৈধভাবে নভেম্বর ২০২৫ ও নভেম্বর ২০২৬ দুই মাসের বেতন থেকে টাকা কর্তন করে একই সময়ে তেইশ (২৩) লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। 

তিনি লিখেছেন, আমার ইচ্ছে ছিলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিল থেকে গত নভেম্বর মাসে টাকাটা পেলে আমার হৃদরোগের ও আমার পুত্রের চিকিৎসা করবো। আমার পুত্র যথাসময়ে সুচিকিৎসার অভাবে গত ১৫ জানুয়ারি রাজশাহী শহরের সিডিএম হসপিটালে আইসিইউ তে লাইভ সাপোর্টে থাকাকালীন মারা গেছে। আমার হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য  ইতোমধ্যে দেশ বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে প্রায় ৭০% খরচ ম্যানেজ করতে পেরেছি। বাকী টাকার জন্য চিকিৎসা শুরু করতে পারিনি। কারোও পক্ষে সম্ভব হলে, নিম্নের আমার বিকাশ/নগদ নম্বরে বা আমার ব্যাংক একাউন্টে আর্থিক সহযোগিতা/লোন প্রদান করতে অনুরোধ করছি। 

আমার বিকাশ ও নগদ নম্বর: ০১৩১১-০৫৭৬৭৮ (এবং এটি আমার ফোন নম্বর ও ডযধঃংঅঢ়ঢ় নম্বর)। আমার ব্যাংক একাউন্ট বিস্তারিত নিম্নে প্রদত্ত হলো:

উৎ গফ অষর অংমধৎ 

ইজঅঈ ইঅঘক অ/ঈ ঘড়. ৫৫০১১০৪৮৮৬৬৯২০০১

জড়ঁঃরহম ঘড়. ০৬০৮১১৯৩৪

জধলংযধযর ইৎধহপয.