বাবার সামনে ধূমপান নিয়ে ঝগড়া, থামাতে গিয়ে চাচা নিহত
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ধানের জমিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় বাবা আবু বকর সিদ্দিকের সামনে সিগারেট ধরিয়েছিল তার ছেলে। সিগারেট ধরানো নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয় বাবা ও ছেলের মধ্যে। এই হাতাহাতি থামাতে হাসুয়ার আঘাতে ওই ছেলের চাচা ইদ্রিস আলী নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিস আলী একই এলাকার বাসিন্দা এবং আবু বকর সিদ্দিকের ভাই। এ ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিক ও তার ছেলে আলফাজ (৩৫) আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহত ইদ্রিস আলীর ছেলে হৃদয় আলী (২৩) বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পবা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জমিতে ধান চাষ ও পাট কাটার সময় আলফাজ তার বাবার সামনে বিড়ি ধরান। এতে বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী বাগিচাপাড়ার বাসিন্দা আক্তার ও মেরাজ তাদের কাজ বন্ধ করে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তা থামাতে এগিয়ে আসেন। তখন আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তার বাবা ও চাচা গুরুতর আহত হন।
আক্তার বলেন, ‘‘আমি তাদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস চাচা থামাতে এগিয়ে আসেন। তখনই হাসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।’’
স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাজ গত রোববার (২৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন। তার মাদকাসক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পবা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন বলেন, এ ঘটনায় নিহত ইদ্রিস আলীর ছেলে হৃদয় আলী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরে হাসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।