শুক্রবার, মে ০১, ২০২৬

বারোমাসি পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী আয়নুল হক

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি ১০ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন কৃষি
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি ১০ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
বারোমাসি পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী আয়নুল হক

বারোমাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের খালিয়াপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা আয়নুল হক। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিশ্রম করে পেয়ারা বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি।অন্যের ওপড় নির্ভরশীল না হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তিনি পেয়ারার বাগান শুরু করেছেন।

সুস্বাদু এবং অল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় তাঁর দেখে অনেকের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে পেয়ার বাগান করতে। আয়নুল হক তার স্ত্রী পাপিয়া সুলতানা ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই গ্রামে বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন ইনোভেটিভ ও পরিশ্রমী কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি ৩০ বছর যাবৎ নার্সারীর ব্যবসা করেন।বড় ছেলে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর যৌথ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচী-উন্নয়ন(কৃষি)-SpecialProgram-Development(Agriculture)) স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্টের (এগ্রিকালচার) আওতায় প্রোগ্রামস ফর পিপলস ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) উল্লাপাড়া শাখার আওতায় বিভিন্ন কৃষকদের বা উদ্যোক্তাদের ফলবাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। 

আয়নুল হক নার্সারীর ব্যবসা করতেন, কিন্তু এই ব্যবসার পাশাপাশি অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো ফলবাগান করার। বিশেষ কর্মসূচি-উন্নয়নের (কৃষি) এক কর্মকর্তা তাকে পিপিডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান এবং প্রথম অবস্থায় উল্লাপাড়া কালীবাড়ী মহিলা সমিতিতে ভর্তি হওয়ার সু-পরামর্শ প্রদান করেন। এরপর তাকে উচ্চমূল্যের ফলবাগান-পেয়ারা চাষের জন্য বলা হলে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়নুল হক বিভিন্ন ধরনের ফলের চারাও বিক্রি করেন। এরপর স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্টের (কৃষি) মাধ্যমে তাকে গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উন্নত ও আধুনিক জাতের ৮২ শতাংশ জমির জন্য বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ৫৫০টি চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশক, ফেরোমনলিউর ও হলুদ ফাঁদসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে দুদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়। পেয়ারা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজিও আবাদ ও বিক্রি করেন তিনি। 

আয়নুল হক জানান, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রথম বছরেই এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এই বাগানের গাছগুলো কমপক্ষে ১০ বছর ফলন দিবে। এতে তার খরচ বাদে ১০ বছরে লাখ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, এই নতুন জাতের পেয়ারা এর আগে কখনও আবাদ করিনি।বারো মাসি হওয়ায় সারা বছরই পেয়ারা বিক্রি করা যায়।

একটি গাছে প্রায় ২০-২৫টি ফল ধরে।অমৌসুমে এই পেয়ারার বাজার মূল্য অনেক বেশি। এই পেয়ারা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি এবং তুলনামূলক বিচি অনেক কম। তিনটি পেয়ারা প্রায় ১ কেজি হয় এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। প্রত্যেকটি পেয়ারা পলি ব্যাগে থাকে বলে পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম হয়।

তিনি আরও বলেন, বড় ছেলে পড়াশুনার পাশাপশি বাগানও দেখাশুনা করেন এবং পেয়ারা বিক্রির সময় বিভিন্ন ব্যাপারীর সাথে যোগাযোগ ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

পিপিডির  কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ বলেন, উল্লাপাড়া উপজেলায় ফলবাগান নেই বললেই চলে, তবে পিপিডি সংস্থা ফল বাগান স্থাপনে বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। ফলবাগান যেহেতু একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল সেহেতু কৃষকরা এটা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনা। কিন্তু বর্তমানে থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা চারা রোপণের আট মাসের মধ্যে ফলন দেয়। প্রথম অবস্থায় গাছের আগাগুলো ভেঙে দিলে গাছ ছোট ও ঝাপড়া হয়, ফলে ফুল ও ফল ভালো আসে।প ক্ষান্তরে ফলন বেশি পাওয়া যায়।এছাড়া তরুন উদ্যোক্তাদের বাগান করার জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির আওতায় আমাদের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণসহ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।