আত্রাইয়ে আলোচিত ৩ খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে স্ত্রী দৃষ্টিরাণী, শিশু কন্যা জেনি সরকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আত্রাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মৃত জয়ের বাবা-মা ও কাকা-কাকিমাকে দায়ি করে মামলা দায়ের করেন মৃত দৃষ্টিরাণীর বাবা রবি সরকার। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত চলছে বলে জানান আত্রাই থানা পুলিশ।
হত্যা মামলার বাদী মৃত দৃষ্টিরাণী সরকারের বাবা রবি সরকার বলেন,গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোবাইল ফোনে জানতে পারি মেয়ে দৃষ্টিরাণী সরকারকে এবং নাতনি জেনি সরকারকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তবে কি কারনে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে তা কেউ জানায়নি। শুক্রবার দুপুরে আত্রাই থানায় এসে মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পাই।
তিনি বলেন,আমার জামায় রাজ সরকার জয় আমার মেয়ে এবং নাতনিকে হত্যা করতে পারেনা এবং জয় নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করতে পারেনা। জয় আমার মেয়েকে গভীরভাবে ভাল বাসে। তিনি ধারনা করে বলেন,পরিবারের লোকজন হয়তো কোন কারনে আমার মেয়ে,জামায় এবং নাতনিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। যে কারনে সুষ্ঠু বিচার পেতে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছি। আসা করছি থানাপুলিশ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করবেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আত্রাই থানা পুলিশের এসআই শাহাজুল ইসলাম বলেন, দৃষ্টিরাণী সরকার এবং শিশু কন্যা জেনি সরকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। জয়ের মাদকাশক্তের বিষয়,মানসিক অশান্তির কারন এবং দায়েরকৃত মামলার বিবরনসহ বিভিন্ন দিক ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসা করছি দ্রুতই তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উম্মোচন করা সম্ভব হবে। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, নিহত দৃষ্টির বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সার্বিক বিষয় ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ রাজ সরকার জয়ের স্ত্রী দৃষ্টিরাণী সরকারের চিৎকারে লোকজন ছুটে যায়। এর পর দৃষ্টিরাণী সরকার,শিশু কন্যা জেনি সরকার এবং জয়কে গলায়,পিঠে ও বুকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আত্রাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা দৃষ্টিরাণীকে মৃত ঘোষনা করেন।
এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু কন্যা জেনি এবং জয়কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে রাতেই শিশু কন্যা জেনি সরকার এবং শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ জয় সরকার মারা যায়। স্থানীয়দের ধারনা,জয় মাদকাশক্ত হওয়ায় হয়তো স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে নিজেও গলায় ও বুকে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।