পাবনায় আবারও সক্রিয় হচ্ছে চরমপন্থী ‘লাল পতাকা’; জনমনে আতঙ্ক
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় নীরব থাকার পর উত্তরের জেলা পাবনায় পাবনায় আবারও সক্রিয় হচ্ছে একসময়ের নিষিদ্ধ ও আলোচিত চরমপন্থীর সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল ‘লাল পতাকা’।
প্রকাশ্য পোস্টারিং ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে এই চরমপন্থী সংগঠনটি।
ইদুল ফিতরের রাতে জেলার আতাইকুলা, ফরিদপুর থানা এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটে। যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পোস্টারে যা বলা হয়েছে
সরেজমিনে দেখা গেছে, একদন্ত, লক্ষীপুর, বৃহস্পতিপুর, ভুলবাড়িয়া, তেবাড়িয়া, শ্রীপুর, শিবপুর, শরৎগঞ্জ, ধানুয়াটা, বালুঘাটা, আয়েনগঞ্জ, হাদল, ধূলাউরীসহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করা হয়েছে।
বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সাঁটানো পোস্টারগুলোতে বৈপ্লবিক ও সরকারবিরোধী নানা স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে লেখা-
”দুনিয়ার সর্বহারা এক হও”
”ভোটের বাক্সে লাথি মারো, সমাজতন্ত্র কায়েম করো”
”লাঙল যার জমি তার, জাল যার জলা তার”
”বিদেশি কাপড় বন্ধ করো, তাঁত শিল্প রক্ষা করো”
এক সময়ের ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে পরিচিত আটঘরিয়া উপজেলার পূর্বাঞ্চল ও আতাইকুলা থানার উত্তর অঞ্চলের বাসিন্দারা এই ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একদন্ত বাজারের কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “রাতের আঁধারে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে। সকালে উঠে এগুলো দেখার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুরোনো সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর কথা মনে করে আমরা আতঙ্কিত।”
সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কর্মী জানান, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, “বুর্জোয়া শ্রেণির দালাল নেতাদের কারণে দেশ আজ রসাতলে। বিচারের নামে প্রহসন চলছে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও এখন আর বসে থাকা সম্ভব নয়। এরা হাটঘাট, নদী খাল বিল সব জায়গায় ইচ্ছে মতো চলছে। সড়কে ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা নিচ্ছে কারোর কোন মাথাব্যাথা নেই।”
উল্লেখ্য, গত সরকারের সময় বিপুল সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় দলটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।
ওই দলের আত্মসমর্পণ করা সাবেক এক কর্মী জানান, ‘আত্মসমর্পণ করার পর থেকে আমরা নিষ্কিয় অবস্থায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করে চলছি, আমরা আর ওই অন্ধকার জগতে ফিরতে চাই না। ওই সময়ে সরকারের দেয়া আর্থিক সহায়তায় আমরা বর্তমানে ভালো আছি।’
এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘পোস্টারিংয়ের খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নমুনা সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কারা এই পোস্টারিংয়ের সাথে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয় সেজন্য আমাদের ওসি এবং সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশিং এর সদস্যরা কাজ করছেন। অতীতে যে সকল চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন তাদের তালিকা নিয়েও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আবার তাদের নাম দিয়ে অন্য কেউ অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে কিনা সেটিও সতর্কভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।’