শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬

নগরীতে আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন
নগরীতে আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পেটানোর পর তার একটি মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে নগরের শাহমখদুম থানা সংলগ্ন পবা নতুনপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ খান ফরহাদ নামের ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ড্রেনের ভেতর ফেলে মারধরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


ফিরোজ খান শাহমখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। তবে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বাড়ি আসতেন। এবার ঈদ করতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। মারধরের পর তিনি ভয়ে হাসপাতালেও ভর্তি থাকতে পারেননি। গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। কবিরাজের চিকিৎসা নিচ্ছেন।


ফিরোজ খানের অভিযোগ, শাহমখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আলী, তার নিকটাত্মীয় মো. শাকিব, লালন ও মনাসহ কয়েকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে গেছে। এছাড়া বাম হাতের বাহু ও কোমরের হাড়ে ফাটল ধরেছে। কবিরাজ হাতে প্লাস্টার করে দিয়েছেন। কোমরে বাঁশের বাতা বেধে দেওয়া হয়েছে।


ফিরোজ খান জানান, তার নামে কোনো মামলা নেই। তাই মাঝে মাঝে এলাকায় যেতেন। বৃহস্পতিবার তাকে দেখতে পেয়ে মামুন চা খাওয়ার জন্য ডাকেন। এ জন্য তিনি মোটরসাইকেল থেকে নামেন। এরপরই অন্যরা এসে তাকে কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। মারতে মারতে তাকে ড্রেনের ভেতর ফেলে দেওয়া হয়। থানার পাশেই এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আসেনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ভয়ে তিনি হাসপাতালে না থেকে গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি চলে গেছেন।


তিনি অভিযোগ করেন, মারধরের পর শাকিব তার ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়েছেন। এলাকার কিছু ব্যক্তিকে তিনি মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তাদের শাকিব জানিয়েছেন যে মোটরসাইকেলটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন আলী প্রথমে দাবি করেন, এ রকম কোনো ঘটনার কথা তিনি মনে করতে পারছেন না। পরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ফিরোজ মানুষকে যে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, মানুষ এলাকায় পেয়ে তাকেও শায়েস্তা করেছে। তবে মামুন দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজে জড়িত নন।


অভিযুক্ত মো. শাকিবও দাবি করেন, ঘটনার ব্যাপারে তার কিছু মনে পড়ছে না। তিনি নিজে এসবের সঙ্গে যুক্ত নন। ঘটনা সম্পর্কেই যেহেতু জানেন না, তাই মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন। কেউ তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার ব্যাপারে শুনেছি। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে কাউকে পায়নি। থানায় কেউ কোনো মোটরসাইকেলও জমা দেয়নি। এ নিয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।