নওগাঁয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তেল পাচ্ছেন শত শত মোটরসাইকেল আরোহী
বৈরী আবহাওয়া। শনিবার আকাশ থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ঝড়ছে। কেউ একটু তেল নিয়ে ফিরবেন নিজ বাড়ি আবার কেউ তেল নিয়ে যাবেন কর্মস্থলে। আবার অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরীজীবী মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ছুটবেন। কিন্তু একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও চাহিদা মাফিক তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান সময়ের ‘সোনার হরিণ’ একটু জ¦ালানি তেল পাওয়ার আশায় নওগাঁর রাণীনগরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মেসার্স শাহী ফিলিং স্টেশনের চারপাশে অপেক্ষা করছে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী। কিন্তু তেল নেই বলে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডিপো থেকে তেল আসলেই সরবরাহ করা হবে- এমন খবরে অপেক্ষায় ভোক্তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাম্পে আসলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। খোঁজখবর নিয়ে দেখেন ওই পাম্পে কিছু তেল অবশিষ্ট আছে। শতাধিক মোটরসাইকেলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলে সেই তেল সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করে দিলেন।
এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল আরোহীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এমন কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যদি কঠোর পর্যবেক্ষণ করা হতো তাহলে হয়তো বা তেলের এমন তীব্র সংকটের সৃষ্টি হতো না- এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
দেশের বহুজাতিক প্রাণ কোম্পানির কর্মচারী রায়হান হোসেন জানান, মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য তাদের প্রধান বাহন মোটরসাইকেল। প্রতিদিন তাদের ৫০-৭০ কিলোমিটার পথ চলাচল করতে হয়। বর্তমান তেলের সংকটের কারণে বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে অনেক সময় চলে যাচ্ছে। আবার লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা মাফিক তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানের ৫টি পাম্প ঘুরে এসে রাণীনগরে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে কিছুটা তেল পাওয়া সম্ভব হলো। সরকার হয় দ্রুত তেল সংকট দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না হলে পুরো দেশজুড়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিক। পুরোপুরি তেল সরবরাহ বন্ধ হলে আমরা বিকল্প পথ অবলম্বন করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, দেশজুড়েই চলছে জ¦ালানি তেলের সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা মাফিক তেল না পাওয়ার কারণে গ্রাহকদের চাহিদা মাফিক তেল দিতে পারছে না। আবার অনেক অসাধু ব্যবসায়ী সংকটকে পুঁজি করে অবৈধ মজুত করার চেষ্টা করছেন। উপজেলায় যে ৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে নিয়মিত তাদের বরাদ্দ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী যদি কেউ গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ না করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাই প্রতিনিয়তই ফিলিং স্টেশনগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে।
এসময় যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অবশিষ্ট তেল পাওয়া যাচ্ছে সেই তেলগু সুশৃঙ্খল পরিবেশে গ্রাহকদের মাঝে নিয়ম মেনে সরবরাহ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে যে সকল মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ও গাড়ির কাগজপত্রাদি সঠিক আছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল প্রদান করা হচ্ছে। তেলের সংকট দূর না হওয়া পর্যন্ত উপজেলাজুড়ে এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলাজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং সক্রিয় আছে। জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশন কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোন ফিলিং স্টেশনে কোন অনিয়মের সত্যতা মিললেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়া অবৈধভাবে তেল মজুত রাখার খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যতদিন দেশজুড়ে তেলের এমন সংকট শিথিল না হচ্ছে এবং পরবর্তিতে সরকারের কোন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ড চলমান রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।