জ¦ালানি সংকটে নায়করূপে বৃষ্টি!
দেশজুড়ে চলছে জ¦ালানি সংকট। আর এই সংকটের মধ্যে আর্শিবাদ হয়ে এসেছে বৃষ্টি যা কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তির হাসি। এই বৃষ্টি সেচ খরচ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে কৃষকরা আরও বৃষ্টির আশা করছেন।
বৃষ্টিতে ধানের চারা ধুয়ে যাওয়াসহ মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়, যা ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, এ বৃষ্টিতে বোরো ধান, শাক-সবজি, পাট, আম, কাঁঠাল ও অন্যান্য ফসলের উপকার হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়ছে গম। গম এখন ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। যা আগামী দুয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে সেচের প্রয়োজন এমন মোট জমির প্রায় ২১ শতাংশে ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন সারাদেশে তেল সংকটে ভুগছে।
চলতি বছরের এই চৈত্র মাসের বৃষ্টিতেও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে কৃষক। তারা বলছে চৈত্রের খরা বা দাবদাহ থাকলে বোরোর ফলন কম হয়। এবার বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভাল হবে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি হওয়াতে কমপক্ষে সাত দিনের সেচ খরচ কমে গেছে। বৃষ্টি- সংকটকালে নায়কের মত কাজ করেছে।
রাজশাহী অঞ্চলে এখন বোরো মৌসুমে চলছে। এ জন্য সরকার ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার পর্যাপ্ত সরবরাহ করছে। শেষ দিকে ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেল সংকটের কারণের সেচ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছিল কৃষক। তবে চৈত্রের এই বৃষ্টি কৃষকদের সে দুশ্চিন্তা অনেকটা দূর করে দিয়েছে। বৃষ্টির পরশে বোরো ধানের জমি সতেজ হয়ে উঠেছে। কৃষক বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
রাজশাহীর পবা উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, বোরোর সেচের জন্য ডিজেল তেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্পগুলো ঘুরেও তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। এজন্য বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হচ্ছিল। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধান, শাক-সবজি ও ফল চাষিদের ব্যাপক উপকার হয়েছে। এ বৃষ্টি আরও প্রয়োজন। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, দেশের খাদ্য সরবরাহের প্রধান চাহিদা সাধারণত বোরো উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই মৌসুমে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সময়মতো কৃষকদের উন্নত বীজ, সার এসব সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষদের মাঝে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এবছর আবহাওয়া ছিল বেশ অনুকূলে। চৈত্রের খরায় অনেক সময় বোরো ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবছর চৈত্রে বৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা এ বছরও বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছি।
ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান ড. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, চৈত্রের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য অনেক উপকারী। এ বৃষ্টির ফলে ধানের চারা ধুয়ে গিয়ে রোগ-বালাই কম হয় এবং গাছ সতেজ থাকে। খরা পরিস্থিতিতে মাঠের জমিতে পানি জমে থাকায় সেচ বাবদ খরচ কমে যায়। এমনিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জমিতে সেচ বেশি দিতে হয়। তবে বৃষ্টির কারণে মাটির ভূগর্ভস্থ স্তর রিচার্জ হয়, মাটি আর্দ্র হয়, যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে চৈত্রের বৃষ্টি বোরো ধানের ভাল ফলনের জন্য বিশাল উপকারী। যদি বড় ধরনের প্রকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে বোরোর বাম্পার ফলন হবে এমনটা আশা করা যায়।