শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬

দুর্গাপুরে কোথাও মিলছে না পেট্রল-অকটেন, পাম্পে দীর্র্ঘ সারি

গোলাম রসুল, দুর্গাপুর ৩০ মার্চ ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল, দুর্গাপুর ৩০ মার্চ ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে কোথাও মিলছে না পেট্রল-অকটেন, পাম্পে দীর্র্ঘ সারি

রাজশাহী দুর্গাপুরে প্রায় ২০ দিন যাবৎ জ¦ালানি তেল নেই এজেন্সি ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে। বন্ধ রয়েছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই উপজেলায় কোনো ফিলিং স্টেশন নেই। আছে শুধু ৩টি এজেন্সি ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র। 


এদিকে তেল না পাওয়ায় এ উপজেলার মানুষ চলে যাচ্ছেন পার্শ্বের পুঠিয়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে সেখানেও গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পরেও কাক্সিক্ষত তেল পাচ্ছেন না তারা। এর পরেও জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল) কিনতে প্রতিনিয়ত পুঠিয়ার বানেশ্বর, বেলপুকুরসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন গাড়ি চালকেরা।


বিশেষ করে মোটরসাইকেলের চালকদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। দুই-একটি দোকানে তেল থাকলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে গোপনে, অতি চড়া দামে। অনেকে বলছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের জ¦ালানি মন্ত্রী বলছেন দেশে তেলের কোনো সংকট নেই।


এদিকে, অনেক ক্রেতা বলছেন দেশে উত্তলিত হয়ে থাকা অকটেন ও পেট্রল। তাহলে কেনো এ সংকট দেখা দিবে? তারা বলছেন সরকারের কিছু মন্ত্রীদের এটি একটি সিন্ডিকেট। তারা অতি চড়া দামে ব্লাকে তেল বিক্রি করে বাজার সংকট তৈরি করছেন। আর এ প্রভাব পড়ছে ক্রেতাদের উপরে।  


এ উপজেলায় গত ১৪ মার্চ থেকে কোনো প্রকার তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল না পেয়ে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মোটরসাইকেল। অনেকে আবার অন্য গাড়ির সাথে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের গাড়িটি। এদিকে সেচ কাজে জ¦ালানি তেল না পাওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা পড়ছেন দুশ্চিন্তায়। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ। 


দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয়কারী দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের জন্য ক্রেতারা দোকানের সামনে ভিড় করছেন। তেল না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। 


সিংড়া বাজারে জ¦ালানি তেল বিক্রেতা এজেন্সির মালিক খাদেমুল ইসলাম জানান, সরকার আমাদের এজেন্সিতে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। যার কারণে তার দোকান প্রায় ১৫ দিন হলো বন্ধ রয়েছে। তেল পেলেই আবারো তেল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করবেন তিনি। 


হোজা গ্রামের মোটরসাইকেল চালক রুবেল বলেন, দুর্গাপুর উপজেলার কোথাও তেল না পেয়ে তিনি প্রথমে বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে তেল না পেয়ে তিনি বেলপুকুর বিশমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনে যান। এরপর তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পরে ৪০০ টাকার তেল পেয়েছেন। সেখানে যাওয়া আশাতেই তার দেড় লিটার তেল শেষ হয়ে গেছে।


বহরমপুর গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন, সেচের অভাবে তার পেঁয়াজ খেত শুকিয়ে যায়। কোথাও ডিজেল না পেয়ে তিনি বানেশ্বর পাম্পে গিয়ে ২ লিটার তেল নিয়ে আসেন। সেখানে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। লাইন ধরে চাহিদামত তেল পাননি তিনি।


মাছ বহনকারী ভুটভুটি চালক নাজমুল জানান, কোন পাম্পে তেল দিচ্ছে তা খোঁজখবর নিয়ে ছুটে চলতে হয় সেখানে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কখনো তেল পাই, আবার কখনো পাই না। এভাবে কি গাড়ি চালানো যায়?


প্রাইভেট কার চালক আমিনুল ইসলাম জানান, তেল এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে। ১ হাজার টাকার উপরে কোনা পাম্পে অকটেন দিচ্ছে না। তার উপরে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন। অনেকে আবার লাইনে থেকেও তেল পাচ্ছে না।


মোটরসাইকেল চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি পানানগর থেকে পুঠিয়ার বানেশ্বর পাম্পে গিয়েছিলেন তেল নিতে। সকাল থেকে তিনি ৪ টি তেল পাম্প ঘুরেছেন। কোথাও তেল পাননি। তার গাড়িতে যততুক তেল ছিলো তাও শেষ পর্যায়ে। সে বাধ্য হয়ে তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরো যান।


এদিকে জ¦ালানি তেলের অপচয় রোধ ও চোরাচালান প্রতিরোধে পাশ্ববর্তি পুঠিয়া উপজেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনগুলোতে একজন করে ট্যাক অফিসার নিয়োগ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। সেই সাথে চালকদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কাগজ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের পরে কতটা কাজে আসবে এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা করছেন জ¦ালানি তেল ব্যবহারকারীরা।