রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রেশম চাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন
রেশম চাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার প্রতিপালনের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাড়ে ১১ হাজার রেশম চাষিদের কার্ডের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। তারা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।


শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থার সৃষ্টি। আমাদের দেশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের নিয়ে রেশম শিল্পের সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। আমারা এ শিল্পকে নিয়ে ভালো ভাবে বাঁচতে চায়। তবে উত্তম গবেষণার প্রয়োজন। 


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর গবেষণার জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা  আগে ছিল ৯ লাখ টাকা। তবে রেশম শিল্পের উন্নয়নে সকলের পরামর্শ প্রয়োজন। সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় আশা করা যায় এ শিল্প আবার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। 


শরীফুল আলম বলেন, রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তিনি প্রতিটি সেক্টরকে পর্যবেক্ষণ করছেন। রেশম শিল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা হয়েছে। রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধ পরিকর।  


তিনি আরও বলেন, জিআই পণ্য রাজশাহী সিল্ক। সিলেট যেমন চায়ের জন্য বিখ্যাত। চট্টগ্রাম আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানী। তেমনই রাজশাহী সিল্ক নগরী নামেও পরিচিত। সিল্কের সাথে রয়েছে আমাদের আবেগ। রেশম শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। এটির আধুনিকায়ন প্রয়োজন।  এ শিল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত কারিগরি বিষয় জড়িত। ডিম থেকে সুতা উৎপাদন পর্যন্ত সকল কার্যক্রম আবহাওয়ার সঙ্গে জড়িত। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাইরের প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। প্রান্তিক চাষি, বসনীদের সুরক্ষা দেওয়াসহ সকল পর্যায়ে জড়িত ব্যক্তিদের এ শিল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করতে হবে। তাদেরকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে।


এর আগে তিনি রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি কারখানা পরিদর্শন করেন। তিনি পরিদর্শনকালে বলেন, রাজশাহী রেশম শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ ও আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। রাজশাহী রেশম দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুনভাবে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে। রেশম শিল্পের পুনরুজ্জীবনে মাঠপর্যায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি দেখা হচ্ছে।


রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ। অনুষ্ঠাতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাঈমুল হাছান, রাবির অধ্যাপক ড. এম মনজুর হোসেন, সিল্ক ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল জলিল বক্তব্য দেন।


সভায় উপস্থিত ছিলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম, রাবি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক ড. এম, এ মান্নান, নাছিমা খাতুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  সৈয়দ শাহীন শওকতসহ ব্যবসায়ী, পলুপালনকারী, চাষি, রিলার, তাঁতী, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা  উপস্থিত ছিলেন।