শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স মিলেছে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স মিলেছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি এপ্রিল মাসের শেষের দিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।


বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কৌশলগত কিছু সমস্যা সামনে এলে তা সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। তবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।


এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। 


উল্লেখ্য, এর আগে বায়রা লাইসেন্স প্রদান না করায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøালাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি জ্বালানী লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। উদ্বোধনের জন্য অন্যান্য প্রস্তুতি গ্রহন করা হলেও জ্বালানী লোডিং কার্যক্রম শুরু করা এসময় সম্ভব হয় না।


দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম (জ্বালানি) দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি।


প্রকল্প সূত্রের ভাষ্য মতে, জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স পাবার আগে বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকার প্রধানদ্বয়ের সময় নিয়ে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করায় এসময় অস্বস্তিতে পড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


উল্লেখ্য, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।


প্রকল্প সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।