নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ
মামুলি লক্ষ্যে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তানজিদ হাসান তামিম পাল্টা আক্রমণে তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিলেন সব চাপ। তার আগ্রাসী ইনিংসের সঙ্গে রানখরা কাটিয়ে জ্বলে উঠলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের কোনো সুযোগ না দিয়ে অনায়াসে তাই ম্যাচ জিতে সিরিজে ফিরল স্বাগতিক দল।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ৩৫.৩ ওভার লেগেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দলের।
৫৮ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দলের ব্যাটিং হিরো তানজিদ। অবশ্য সহজ জয়ের রাস্তা আগেই করে রেখেছিলেন নাহিদ রানা। প্রচণ্ড গরমে গতির ঝড়ে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা পারফর্মার তিনি।
১৯৯ রানের লক্ষ্যে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ন্যাথান স্মিথের বলে দুই বাউন্ডারি বের করলেও শেষ বলে অফ স্টাম্প উড়ে যায় এই ডানহাতির।
চার ম্যাচ পর একাদশে আসা সৌম্য সরকারকে নিয়ে আগ্রহ ছিল সবার। সৌম্যের শুরুটা মন্দ নয়, উইল ও’রর্কিকে কাভার দিয়ে ছক্কায় উড়ালেও পরে আপার কাট করতে গিয়ে স্লিপ ফিল্ডারদের পার করতে পারেননি। প্রত্যাবর্তনে ব্যর্থ হন তিনি।
ছোট লক্ষ্যে বরাবরই আগ্রাসী খেলা তানজিদ জ্বলে ওঠেন। সহজাত বাউন্ডারি মারার সামর্থ্যে দ্রুত রান আনতে থাকেন তিনি। রানখরায় থাকা শান্ত দাঁড়িয়ে যান তার সঙ্গে। জমে ওঠে আগ্রাসী জুটি।
তৃতীয় উইকেটে দুজনে মিলে ১১০ বলে যোগ করেন ১২০ রান। তানজিদ নিজের ঢঙে খেললে দেখা যায় বড় বড় ছক্কা। কিউই বোলারদের তুলোধুনো করে এদিনও তার ব্যতিক্রম করেননি। মাত্র ৩৩ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
যেভাবে খেলছিলেন সেঞ্চুরিও পেতে পারতেন। ১০ চার, ৪ ছক্কার ইনিংসটা শেষ হয় বড় শটের চেষ্টাতেই। জেইডন লিনক্সের বলে আকাশে উঠিয়ে তিনি ফেরেন ৭৬ রান করে। পাঁচে নেমে লিটন দাস শততম ম্যাচে ভালো স্মৃতি রাখতে পারেননি।
তার বিদায়ের পর ১৩ ইনিংস পর ফিফটি স্পর্শ করেন শান্ত। তবে পেশির টানে এরপরই মাঠ ছাড়েন তিনি। মিরাজকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন তাওহিদ হৃদয়।
এর আগে টস হেরে বল করতে নামা বাংলাদেশের নায়ক নাহিদ। সকালে বেশ মন্থর ও অসমান বাউন্সের উইকেটে গতির ঝড় তোলেন তিনি। তাকে খেলতে গিয়ে ধুঁকতে থাকে নিউজিল্যান্ড। বাড়তি বাউন্সে দাপট দেখিয়ে পাঁচ শিকার ধরেন বাংলাদেশের পেসার। সফরকারীরা দুইশোর নিচে আটকে গেলে জয়ের রাস্তা সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের।