জ্বালানি সংকট ও সেচ স্বল্পতায় লিচুসহ ফসল উৎপাদনে শঙ্কায় কৃষক
জ্বালানি তেলের সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারনে লিচুর রাজধানী ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর উৎপাদনে ধ্বস নামার শঙ্কা করেছেন কয়েক হাজার লিচু চাষীসহ প্রায় ৩৭ হাজার কৃষক। একই সঙ্গে তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনার ঈশ্বরদীর এসব কৃষকের কপালে পড়েছে দু:শ্চিন্তার ভাঁজ।
কৃষকরা জানান, একদিকে যেমন তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি ও তেলের সংকটে পড়ে লিচুসহ সব ধরনের ফসল উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল উৎপাদনে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। তেলের চড়া দাম ও সরবরাহসংকটে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও।
ঈশ্বরদীর কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় ১৭ হাজার ৮৮৯ হেক্টর জমিতে ধান, গম, সরিষা ও সবজিসহ লিচু, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদির আবাদ করে থাকেন প্রায় ৩৭ হাজার কৃষক। এসব জমিতে সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে জমির ফসল হার্ভেষ্ট, পরিবহন এবং অন্যান্য কাজে কৃষকরা যেসব যানবাহন ব্যবহার করেন তাতে জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের খরচ ইতোমধ্যে বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, এমনিতেই পরিশ্রম অনুযায়ী কৃষি আবাদে লাভবান হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। অল্প কিছুদিন পরেই বোরো ধান পাকা শুরু হবে। তার আগে তীব্র গরম, লোডশেডিং এখন নিত্যদিওেনর ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় ক্ষেতের ধান রক্ষায় জমিতে পানি সরবরাহ না বাড়ালে ধানের ফলন আশাতীত হবেনা। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে সংকটে জমিতে সেচ দেওয়ার উপায় নেই।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বৈশাখের শুরু থেকে তাপমাত্রা প্রতিদিন বাড়ছে। তাপমাত্রা পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, বুধবার (২২ এপ্রিল) ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগের দিন মঙ্গলবার ঈশ্বরদীতে ৩৭ ডিগ্রি, তার আগের দিন সোমবার ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলার মানিকনগর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যাৗ কমেছে। প্রতিদিনই মাঠে কাজ করার জন্য শ্রমিক সংকটে পড়ছি অমরা। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষি শ্রমিকরা আগের হাজিরা ৬০০ টাকায় আর কাজ করতে চাননা। তারা তাদের মজুরির দিন হাজিরা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। কারণ হিসেবে শ্রমিকরা বলেন, দুরের গ্রাম থেকে মাঠে কাজ করতে যাতায়াতের জন্য যানবাহন ভাড়া বেড়েছে। এজন্য তারা তাদের হাজিরা ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ৬৫০ টাকা চাচ্ছেন।’
এদিকে ঈশ্বরদীর প্রধান অর্থকরি ফল লিচুর আগাম ফলন দেখে চাষিরা বলছেন এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে তাপদাহ থেকে লিচু রক্ষা করতে লিচুগাছে সেচ দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। লিচুর গাছের গোড়া ও উপরিভাগে পানি দিতে হলে সেচযন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকটে সেচ দিতে খরচ বেড়েছে।
উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামের লিচু চাষি দূর্জয় ইসলাম বলেন এবছর গাছে প্রচুর লিচু দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তাপদাহ আর জ্বালানি সংকটে লিচু রক্ষায় গাছে প্রচুর পানির সেচ দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, জমিতে বা গাছে সেচ দিতে হলে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি দুটোই কৃষকদের জন্য এখন খুব প্রয়োজন। অথচ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল দুটোই কৃষক ঠিকমতো পাচ্ছে না। তবে কৃষকরা যাতে সহজে তেল পতে পারেন সেজন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে দুর্ভোগে না পড়েন সেজন্য আমরা আরো সহজে তাদের সহযোগীতা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।