রাজশাহীর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : ভূমিমন্ত্রী
রাজশাহীর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। গ্রিন সিটি হিসেবে পরিচিত এই শহরকে আরও আধুনিক ও নান্দনিক রূপ দিতে চলছে কাজ। রাজশাহী নগরীর এক হোটেলে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের এক আয়োজনে একথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ড্রেনেজ ও পানির লাইনের মতো ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগ লাইনও মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে। এতে একদিকে ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে’, বললেন মন্ত্রী।
এ সময় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইন্টারনেটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন তিনি।
‘ইন্টারনেটের যোগাযোগ যেন কোনো দিনই বিচ্ছিন্ন না হয়। এতে মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়। দেশে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। একটি সুন্দর পরিবেশ থেকে দ্রুতই সরকারও পড়ে যেতে বাধ্য হয়। এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে।’
রাজশাহী নগরীর গ্রান্ড রিভার ভিউ হোটেলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত ‘আইএসপিএবি-নিক্স রাজশাহী বিভাগীয় পপ’- এর উদ্বোধনের আয়োজন ছিল। সেখানে প্রধান অতিধি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবির বিভাগীয় সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান।
রাজশাহী অঞ্চলের ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে চালু হলো ‘আইএসপিএবি-নিক্স আঞ্চলিক পপ’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে ইন্টারনেটের গতি ও মান বাড়বে, কমবে বিদেশি ব্যান্ডউইথের ওপর নির্ভরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ডেটা আদান-প্রদান আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন,“রাজশাহীর উন্নয়নে আমাদের একটি সুপরিকল্পিত মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। আইটি খাতে এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি। নিক্স আঞ্চলিক পপ চালুর মাধ্যমে রাজশাহীতে ডিজিটাল উন্নয়নের নতুন গতি সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও বলেন,“ইন্টারনেট একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এটি যেন কখনো বিচ্ছিন্ন না হয়, সে জন্য আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। রাজশাহীতে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সুবিধা ও আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ইন্টারনেট ক্যাবল স্থাপনের জন্যও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা রাজশাহীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইন্টারনেট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
দেশীয় পর্যায়ে ডেটা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,“এখন দেশের ইন্টারনেট ট্রাফিক দেশের ভেতরেই বিনিময় করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিদেশি নির্ভরতা কমবে, দেশের অর্থ দেশেই থাকবে। এটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।”
রাজশাহীতে ডেটা সেন্টার স্থাপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়ার জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উন্নয়ন রাজশাহীকে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিনগরীতে পরিণত করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই আঞ্চলিক পপের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ জিবিপিএস ট্রাফিক পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মাহফুজুর রহমান বলেন,“রাজশাহীকে আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পপ চালুর ফলে নগরবাসী আরও দ্রুতগতির ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবার সুফল পাবেন। শিক্ষা, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া রাজশাহীর ঝুলন্ত তার আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়ার জন্য রাজধানীর ধানমন্ডির সমন্বিত সংযোগ মডেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ভবিষ্যতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএসপিএবি’র কোষাধ্যক্ষ ও রেড ডাটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মইন উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ২০২২ সালে ৩৪ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়ে যাত্রা শুরু করা আইএসপিএবি-নিক্স বর্তমানে ৪০০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশের পাঁচটি বিভাগে এ নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক পপ রয়েছে এবং শিগগিরই বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এর সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, রাজশাহীর নিক্স স্থাপনে অর্থায়ন করেছে ইন্টারনেট সোসাইটি ও ইন্টারনেট সোসাইটি ফাউন্ডেশন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়েই ব্যবহারকারীরা দ্রুত ডেটা বিনিময়ের সুবিধা পাবেন এবং বর্তমানে ১৫২টি আইএসপি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি’র বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। এছাড়া ইন্টারনেট সোসাইটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন, পরিচালক মিঠু হাওলাদার, সাব্বির আহমেদ, রাশেদুর রহমান রাজন, রাইসুল ইসলাম তুহিন এবং মো. জুবায়ের ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আঞ্চলিক পপ চালুর ফলে রাজশাহী অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন, দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি আইটি খাত, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজশাহী আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।