ট্রাম্পের সফরে ২০০ উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি চিনের, তবু কেন বোয়িংয়ের শেয়ারে দরপতন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরের মধ্যেই বড়সড় ব্যবসায়িক চুক্তির খবর সামনে এল। গতকাল বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চিন ২০০টি বোয়িং জেট উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় শেয়ারবাজারে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে উড়োজাহাজ নির্মাতা সংস্থা বোয়িং।
ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিল, প্রায় ৫০০ উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ৫০০টি ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ জেটের পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যয়বহুল ‘ওয়াইডবডি’ উড়োজাহাজও ছিল। সে তুলনায় ২০০টি উড়োজাহাজের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। যার ফলে বৃহস্পতিবার বাজার চলাকালে বোয়িংয়ের শেয়ারের দর প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পায়।
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আজ তিনি (সি চিন পিং) একটি বিষয়ে রাজি হয়েছেন, তিনি ২০০টি বড় উড়োজাহাজ অর্ডার করতে যাচ্ছেন।’ তবে এই উড়োজাহাজগুলো ঠিক কবে নাগাদ সরবরাহ করা হবে বা এর বিস্তারিত শর্ত কী, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০৪৫ সালের মধ্যে চিনের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে ৯ হাজার নতুন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে বলে বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় সংস্থাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। বর্তমানে চিনের জন্য অন্তত ১ হাজার নতুন উড়োজাহাজের অর্ডার দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০০টি বোয়িং বিমান অর্ডার করেছেন সি চিন পিং—ট্রাম্পের দাবি২০০টি বোয়িং বিমান অর্ডার করেছেন সি চিন পিং—ট্রাম্পের দাবি
চিনের বিশাল আকাশ পরিবহন বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপীয় সংস্থা এয়ারবাসের সঙ্গে বোয়িংয়ের তীব্র লড়াই দীর্ঘদিনের। গত দশকে এয়ারবাস চিনের তিয়ানজিনে নিজস্ব অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট (সংযোজন কারখানা) স্থাপন করে বোয়িংকে পেছনে ফেলে বাজারের বেশির ভাগ দখল করে নিয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় চিন ৩০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। কিন্তু পরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় গত কয়েক বছরে বোয়িংয়ের অর্ডারের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে।
ফিরে গেলেন ট্রাম্প, ইরান-তাইওয়ান ইস্যুতে সির সঙ্গে কী আলোচনা হলোফিরে গেলেন ট্রাম্প, ইরান-তাইওয়ান ইস্যুতে সির সঙ্গে কী আলোচনা হলো
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং প্রায়ই তাদের কূটনৈতিক সফরগুলোকে বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে। বিএনপি পারিবাস-এর অ্যারোস্পেস ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট ম্যাট একার্স বলেন, ‘এই সফরে আরও কিছু অর্ডার আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে আপাতত বিনিয়োগকারীরা একে প্রত্যাশার চেয়ে কম হিসেবেই দেখছেন।’
উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের সিইও কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের সিইও ল্যারি কাল্প এই সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছেন। অর্টবার্গ গত মাসেই আশা প্রকাশ করেছিলেন, চিনের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের উন্নতি হলেও বোয়িংয়ের জন্য দিনটি খুব একটা সুখকর ছিল না।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন