রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংস্কৃতির চর্চা

সোনার দেশ ১২ জুন ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১২ জুন ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংস্কৃতির চর্চা

মানবিক সমাজ গঠনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়া বিষয় চালুর কথা বলা হচ্ছে। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষে প্রাথমিক শিক্ষাখাতের জন্য অন্তত ৬০ হাজার বিশেষায়িত শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। 

মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই ৪টি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা,সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে।

১০ জুন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নিঃসন্দেহে সরকারের এই সিদ্ধান্ত যুগান্তকারি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে- সেটাই প্রত্যাশিত। 

প্রাথমিক স্তরে সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বরং এটা ভেবে অবাক হতে হয় যে, স্বাধীনতার এতো বছর পরেও কেন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংস্কৃতি চর্চার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে আসছে? অথচ সংস্কৃতি শিক্ষার সামগ্রিক আকার। শিক্ষা সংস্কৃতিরই অংশ। বাংলাদেশের জন্য এটি আরো বেশি প্রণিধানযোগ্য। এ দেশের বাঙালিরা সংস্কৃতির ঐহিহ্যের ধারায় নিজেদের প্রথমবারের মধ্যে সংহতি প্রকাশ করে। সংস্কৃতি চেতনার প্রবল ধারার মধ্যে বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ের উদ্বোধন ঘোষণা করে। সেই চেতনার পথ ধরেই আজকের স্বাধীন- সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে সংস্কৃতি চর্চা অনেকটাই উপেক্ষিত হয়ে আসছে।     

সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়েই শিশুর চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়ে থাকে। এটি শুধু আনন্দের উপকরণ নয়, শিশুর আত্মপরিচয় গঠন, সহমর্মিতা ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়。প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কৃতি চর্চার ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  চিত্রাঙ্কন, গান, নাটক ও আবৃত্তির মতো চর্চা শিশুর মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। এর মাধ্যমে পড়ার একঘেয়েমি দূর হয় এবং পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ে। স্থানীয় ছড়া, লোকসংগীত ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি চর্চা শিশুকে তার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও গর্বিত করে। সহপাঠীদের সাথে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে শিশু অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার শিক্ষা পায়। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের আবেগ সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়া।

উদার মানবিক ও সহনশীল সমাজ গঠনে সংস্কৃতি চর্চা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিশু অবস্থাতেই তাদের মধ্যে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়ার চর্চা- শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে নিশ্চয়।