রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে শ্রমিক মৃত্যু হার বাড়ছে

সোনার দেশ ২৭ জুন ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৭ জুন ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে শ্রমিক মৃত্যু হার বাড়ছে

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে

চট্টগ্রামের নগরী ও জেলার রাউজান উপজেলায় দুটি সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 


সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে শ্রমিক মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু এ মৃত্যু মিছির রুখতে তেমন উদ্যোগ লক্ষণীয় নয়। যা শ্রমিকদের স্বার্থ-সুরক্ষা বিবেচনায় পদক্ষেপ নেয়্ উচিৎ ছিল। ফলে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে হরহামেশাই বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে পড়ে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) দাবি এমন প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তেই আছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে- জুনের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে প্রবেশ করে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুন চট্টগ্রামে চার জনের মৃত্যু ছাড়াও ১৮ জুন পটুয়াখালী সদরে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ২০ জুন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে নেমে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রেক্ষিত বিবেচনায় এটা অপেক্ষা রাখে না যে, বাড়ির সেপটিক ট্যাংক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বুঝে না বুঝে ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রাণ যাচ্ছে শ্রমিকের। প্রতি বছরই সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত্যুর হার বাড়ছে। বলা হচ্ছে- ৫ বছরের ব্যবধানে এমন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গবেষক, প্রকৌশলী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বিষাক্ত গ্যাস জমে দীর্ঘ দিনের বদ্ধ ট্যাংকটি যে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন মৃত্যু হচ্ছে। তাছাড়া ট্যাংকে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত না করে ভেতরে নামা, মৃত্যুর পর দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়া, মৃত ব্যক্তির পরিবারকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ না দেয়া এবং দায়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়াও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির বড় কারণ।


শ্রম আইন ২০০৬-এর ৭৮-এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত না করে নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিয়োগকারী প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে- এ কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু শ্রম আইনের এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।


ম্রম আইন অনুযায়ী সেপটি ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের জন্য শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠার বা ব্যক্তি দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। সতর্কমূলক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্য তারাই মূলত দায়ি। কিন্তু দুর্ঘটনার পর নিয়োগকারির তেমন কিঝুই হয় না। অনেক সময় দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত হয়। দুর্ঘচনার জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা গেলে এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ন্ত্রশ করা সম্ভব হবে।