বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক
বজ্রপাতের সতর্কবার্তা তৃণমূলে পৌঁছাতে হবে
দেশে বজ্রপাত এখন সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এর ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রাণহানির ঘটনা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু প্রাণহানি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে- কিন্তু সেটি আলোচনা মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
২৮ জুন ছিল আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। রাজধানীর খামারবাড়িতে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারে দিবসটি প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’। কিন্তু এই ঘরে যাওয়ার যৌক্তিকতার কথা শুধুই স্লোগানের মধ্যে সীমিত থাকলেই চলে না। স্লোগানের তাৎপর্য এবং স্বনিরাপত্তার গুরুত্বের বিষয়টি তৃণমূল পর্যায়ে নেয়ার মত সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ বজ্রপাত এমন এক দুর্যোগ যা আমাদেরকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে।
খামারবাড়ির আলোচনার তথ্য বলছে- দেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে; যাতে অন্তত ৩৫০ জনের প্রাণহানি হয়। অর্থাৎ বজ্রপাত খুবই সাধারণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। কিন্তু প্রাণহানির বিষয়টি মোটেও সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। বজ্রপাত থেকে রক্ষার কৌশলগত ধারণা না থাকার কারণে মৃত্যু-সংখ্যা আশংকাজনকহারে বাড়ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক ও উৎকণ্ঠার। বজ্রপাতে সাধারণত গ্রামের কৃষক ও জেলেরা অধিকহারে মারা যায়। এই শ্রেণির লোকেদের জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হয়। মেঘ-বৃষ্টি ও বিজলী চমকের সময় নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের কোনোই ধারণা নেই। অথচ এই ধারণা দেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই সতর্কবার্তা তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটিই হচ্ছে না।
খামারবাড়ির আলোচনায় তথ্য দেয়া হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বজ্রপাতের সতর্কবার্তা প্রচার শুরু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এক থেকে ছয় ঘণ্টা আগে বজ্রপাতের সতর্কবার্তা ও করণীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, ফেইবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। প্রযুক্তি এই সুবিধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে যে সব মানুষ বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন- তাদের কাছে সতর্কবার্তা কী উপায়ে পৌঁছে দেয়া সম্ভব সে বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট, ফেইবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করে তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
আলোচনার সুপারিশ অনুযায়ী বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার জন্য একটি অভিন্ন সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, আনসার ভিডিবি সদস্যদের ওই প্লাটফরমের আওতায় আনা যেতে পারে।