রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

কিশোরী মাতৃত্বের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখী

সোনার দেশ ০৮ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৮ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
কিশোরী মাতৃত্বের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখী

মানবিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি

বাংলাদেশের শিশু ও নারীদের ওপর পরিচালিত নিয়মিত জরিপ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর প্রাথমিক ফলাফল গত নভেম্বরে প্রকাশ করে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে- দেশে কিশোরী মাতৃত্বের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১৫-১৯ বছর বয়সী প্রতি হাজার কিশোরীর মধ্যে জীবিত সন্তান জন্মদানকারী মেয়ের হার ৮৩ থেকে বেড়ে ৯২-এ পৌঁছেছে।


বাল্যবিবাহের ধারাবাহিকতায় দ্রুত সন্তান নেয়ার পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ তাদের উচ্চঝুঁকির মাতৃত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ওই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।। ফলে বাড়ছে মৃত বা অপরিণত শিশু প্রসব, মা ও শিশুর অসুস্থতা, অপুষ্টি ও মৃত্যুঝুঁকি। অথচ বাল্য বিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে কয়েক দশক ধরে জোরালো কাম্পেইন পরিচালিত হয়ে আসছে- যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। 


কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রগতির পর গত দুই বছরে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে শিশুমৃত্যুর হারও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর বড় কারণ বাল্য ও কিশোরী বিয়ে। অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণের কারণে সন্তান প্রসব করার সময় রক্তক্ষরণ বেশি হয়, যে কারণে তাদের মৃত্যুর হার বেশি। এছাড়া কিশোরী মায়েদের বিভিন্ন সমস্যার প্রভাব শিশুর স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে। ফলে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে বেশি।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেটারনাল অ্যান্ড পেরিনেটাল ডেথ সার্ভিলেন্স অ্যান্ড রেসপন্সের (এমপিডিএসআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ধারাবাহিকভাবে মাতৃমৃত্যু কমলেও গত দুই বছর আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০২২ সালে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু হার ছিল ৬২ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল লাখে ৭৫। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণ শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়। এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা, অর্থনীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, সমন্বিত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। 


পরিবারে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়ার সংস্কৃতি এখনও বড় বাধা। জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরো জবাবদিহিমূলক করতে হবে। তরুণদের জন্য সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা তৈরি এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মূল ধারার গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।