রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রামেক হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট বন্ধ

সোনার দেশ ০৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন
রামেক হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট বন্ধ

জনস্বার্থেই চালুর উদ্যোগ নেয়া হোক

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঔষধাগার-সিএমএসডি ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করেছিল। কিন্তু স্থাপনাটি বর্তমানের কোনো কাজেই আসছে না। চালুর ১১ মাস পর থেকেই সেটি অচল। এখান থেকে প্রায় বিনা খরচে প্রতিঘণ্টায় ৫০০ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেন উৎপাদনের কথা ছিল।

প্রাকৃতিক বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্লোবাল ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় সিএমএসডির মাধ্যমে আনিফকো হেলথ কেয়ার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্লান্টটি স্থাপন করে। রামেক হাসপাতালের কোনো চাহিদা ছাড়াই এই প্ল্যান্টটি রাতারাতি বসানো হয়। আগে থেকেই হাসপাতালে ভ্যাকুয়াম ইনসুলেশন (ভিআই) ট্যাঙ্কের মাধ্যমে তরল অক্সিজেন ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্লান্টের জন্য জেনারেটর ও টেকনিশিয়ান দেয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় চার বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে প্লান্টটি।

রামেক হাসপাতাল সূত্র মতে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে প্লান্টটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএসডি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্ল্যান্টটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মেরামতের আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতার কারণে মেরামত করা হয়নি।

করোনাকালে দেশের চাহিদা বিবেচনায় সরকারিভাবে  ৯৯টি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে খরচ পড়ে ২৪১ কোটি টাকা। করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে অধিকাংশ প্লান্ট পড়ে আছে। ব্যবহার না করায় অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। কিছু জায়গায় স্থাপনের পর প্লান্ট চালুই হয়নি। পরিকল্পনা ছিল, একটি অক্সিজেন প্লান্ট প্রতি মিনিটে ৫০০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন উৎপাদন করা। পরে এই অক্সিজেন দিয়ে কমপক্ষে ৫০ রোগীকে মিনিটে ১০ লিটার নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা। 

অক্সিজেন প্ল্যান্ট হলো নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চ-বিশুদ্ধতার অক্সিজেন গ্যাস উৎপাদনের একটি কারিগরি ব্যবস্থা। এটি মূলত হাসপাতাল ও বিভিন্ন কারখানায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অক্সিজেন সংকটে এখনও দেশে ১০০ জনে ২০ জন মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদা যথেষ্টই আছে। তা হলে প্লান্টগুলো চালু না হওয়ার কারণ কী? এটা কি এমন যে, গোষ্ঠি বিশেষের স্বার্থ রক্ষার কারণে রাজশাহীসহ অন্য স্থানের অচল প্লান্টগুলো চালু করা যাচ্ছে না? সরকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। জনস্বার্থেই প্লাটগুলো চালুর দাবি রাখে।