বায়ু দূষণে প্রতিদিন মৃত্যু ২৪২ জন
প্রতিরোধী উপায় নিয়ে এখনই ভাবতে হবে
বায়ু বা বাতাস ছাড়া প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব। বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেই মানুষ তথা জগতের সব প্রাণ-প্রকার বেঁচে থাকে। জীবনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সে বায়ুও পরিণত হতে পারে জীবন বিধ্বংসী উপাদানে। রূপ ধারণ করতে পারে মৃত্যুদূতের। বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণা এখন অন্যতম বড় ঘাতক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, এই ধূলিকণাজনিত দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষ প্রাণ হারায়। এই তথ্য অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বায় দূষণের প্রভাবে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নীরব ঘাতক থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ওই গবেষণা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৬টি প্রধান শহরে সূক্ষ্ম ধূলিকণার দূষণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে। একই সঙ্গে এতে ক্ষতি হচ্ছে বছরে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা মহানগীর চিত্র এটি। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের গবেষণাপত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে হৃদরোগে- প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর। শহরভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা।
এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী- সেটাই বিবেচ্য। বায়ু দূষণ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা, সভা-সমাবেশ হচ্ছে- কিন্তু বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ বিবেচনায় অগুরুত্বই থেকে যায়। বরং বায়ু দূষণের মত কারণগুলো নির্বিচার সংঘটিত হয়। প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবেশ আইনের প্রয়োগে ঢিলেমি লক্ষণীয়। বিশেষ করে যে সব শিল্পকারখানা, যানবাহন, ইটভাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি অরক্ষিত কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ু দূষিত হচ্ছে- সেগুলোর প্রতি আইনের যথা-প্রয়োগ হচ্ছে না। একই ভাবে বায়ু দূষণ প্রতিরোধে দেশের মানুষকে সচেতন করা কিংবা সতর্কমূলক প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। বায়ু দূষণের ভয়াবহতা করোনাকালের পরিস্থিতির চেয়ে মোটেও কম ক্ষতিকর নয়। করোনাকালে দেশের মানুষ মাস্কসহ অন্যান্য সতর্কমূলক প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ উদ্বুদ্ধ করার সময় এসেছে। বিষয়টি গুরুত্ববিবেচনার দাবি রাখে।