জমি বিক্রির নামে ৬ লাখ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় নাসরিন, খুঁজছে পুলিশ
রাজশাহীতে জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর আত্মগোপন করে মালয়েশিয়া পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসা. নাসরিন বেগমের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন দায়রাপার্ক মোড় এলাকায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসা. আরিফা খাতুন রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। বাদীর দাবি, মামলায় নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।
মামলার নথি ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমি কেনার জন্য আরিফা খাতুন কয়েক দফায় নাসরিন বেগমকে টাকা দেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৩ জুন একটি চেকের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একই দিনে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৭ জুন নাসরিনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার টাকা দেন আরিফা। বাদীর হিসাবে, সব মিলিয়ে নাসরিনকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
আরিফা খাতুনের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর নাসরিন জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১২ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে কথা হলে নাসরিন জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আরিফা খাতুন দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় আদালতে মামলা করেন। মামলার নম্বর সি.আর-১২৫/২০২৫ (চন্দ্রিমা)। বাদীর দাবি, মামলায় নাসরিন বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। ওই সময় থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরিফা খাতুনের ভাষ্য, মামলা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নাসরিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। নাসরিনের ভাই, মা, ছেলে ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত বা জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে কোনো সমাধান পাননি তিনি।
পরে নাসরিনের বাড়িতে গেলে তার ছেলে জানান, নাসরিন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এরপর মোবাইল ফোনে নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে দাবি করেন আরিফা।
এদিকে নাসরিনের মামা মো. রাকিবুল ও প্রতিবেশী মো. ফেলুও বিষয়টি সমাধানের জন্য আরিফা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা কয়েক দিন সময় নেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত বা জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। নিজেকে বিধবা নারী দাবি করে আরিফা খাতুন বলেন, জমি কেনার জন্য দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি একমাত্র মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাঁচ মাস ধরে বাড়িভাড়া দিতে না পারায় তাকে ভাড়া বাসা ছাড়তে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার কষ্টের টাকা দিয়ে জমি কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর জমিও পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি। এখন আমি অসহায় অবস্থায় আছি।’
আরিফা খাতুন এ ঘটনায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার এবং তার দেওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাসরিন বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় নাসরিনের ছেলে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। তবে টাকা ফেরতের নির্দিষ্ট সময় বা জমি রেজিস্ট্রি না করার কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং নাসরিন বেগমের দায়-দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।