বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পদ্মায় বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন
পদ্মায় বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে জুলাই থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তবে আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে পদ্মাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আসছেন। এ ছাড়া পদ্মা নদীর চরও ডুবে গেছে। চর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে রাজশাহী শহরে আসছেন।


জুলাই মাস থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে পানি আবার কমেও গিয়েছিল। আগস্টের শেষ থেকে আবারও পদ্মায় বাড়তে শুরু করেছে পানি। রাজশাহীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মায় আকস্মিক পানি বাড়ছে। এর কারণ নেপালের সাম্প্রতিক ফ্স্টা ফ্লাড এবং টানা বৃষ্টি। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশংকা নেই। নেপাল থেকে ভারতের গঙ্গা দিয়ে এই পানি প্রবেশ করছে। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। 


পানির এই উচ্চতায় ভয়ের কোন কারণ নেই। গেল বছরে এই সময়টিতে পদ্মা নদীতে যে পরিমাণ পানি ছিল বা বর্ষা মৌসুমে যে পরিমাণ পানি থাকে তার চেয়ে তুলনামূলক কম পানি আছে পদ্মা নদীতে। 


গেল কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ফুলে ফেপে উঠেছে পদ্মা। সপ্তাহ ব্যবধানে পানির উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তলিয়ে গেছে নদীপড়ের কিছু এলাকা। এই অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী যে পদ্মা তীরবর্তী যে সমস্ত অঞ্চল আছে সেইটা প্লাবিত হওয়ার একটা ব্যাপক আশংকা তৈরি হয়েছে।


গেল রোববারে (৬ সেপ্টেম্বর) পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৩৫ মিটার। বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭ মিটার কম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পানির উচ্চতার পাওয়া গেছে ১৬ দশমিক ৬৭ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূন্য ৫ মিটার।


পানি বাড়ার কারণে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ, পবার চরখিদিরপুর ও বাঘার চকরাজাপুর চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পদ্মার দুই পাড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙনও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরাজাপুরে। অনেক বাড়ি ইতোমধ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে কবরও। এদিকে চর আষাড়িয়াদহের বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি তুলে নদীর এপারে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসছেন। এছাড়াও নগরীর পঞ্চবটি খরবোনা এলাকাতেও পদ্মার পানি প্রবেশ করেছে।  


চর আষাড়িয়াদহের বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, চর প্রায় প্লাবিত হয়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ ওইপারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গবাদিপশুও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চর থেকে মানুষ নৌকায় মালপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে, কেউ ভাড়া বাসায় উঠছে।


রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ হাসনাইন হিকল বলেন, দুর্যোগে পড়ার আগেই যদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তবে সেটাই ভালো। কারণ আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণে আমাদের তেমন কোন ব্যবস্থা নাই।


নেপালের ফ্লাশ ফ্লাডের পানি পদ্মা দিয়ে প্রবাহিত হবার তথ্য জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, এতে ভয়ের কিছু নেই। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে পানির পরিমাণ এখনও কম। তাই নদীর উচ্চতা বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।


তিনি বলেন, নেপালের নদীগুলো দিয়ে ভারতের ভেতর প্রবেশ করছে। পদ্মার যে অংশটা তা দিয়ে পানি প্রভাবিত হচ্ছে। তবে বন্যার কোন ইফেক্ট আসবে না। শুধু চরের কিছু অংশ ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে। 


এদিকে নগরীর জলাবদ্ধতা রোধে আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, পদ্মার পানি শাখা ও ছোট নদী দিয়ে বের করে দেবার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। চারটি পয়েন্ট দিয়ে পদ্মা নদীতে রাজশাহী শহরের পানিটা যায়। আর কিছু পয়েন্ট রয়েছে যেটি বারনই নদীতে যায় এই ছয় সাত দিক দিয়েই প্রবাহিত হয়। রাজশাহী মহানগর যে সমস্ত নর্দমাগুলো কিংবা পানিগুলো রয়েছে সেইদিকে যাওয়ার জন্য এখন কাজ করছি।  সেকেন্ডারি এবং প্রাইমারি ড্রেনগুলো যেগুলো হাইটগুলো ১০ ফিট ১৫ ফিট করে আমাদের লেয়ার রয়েছে ডিপ রয়েছে সেগুলো পানিগুলো সচল থাকে তাহলে আমাদের এই বিভিন্ন জায়গায় জলবদ্ধতা আমাদের হবে না।


এদিকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার পানি বেড়েছে এবং পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। গঙ্গার পানি আগামী দু’দিন বাড়তে পারে। এরপর তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।