রাণীনগরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হারিয়ে দিশেহারা স্বামী, লাখ টাকা মাতবরদের পকেটে
নওগাঁর রাণীনগরের ছয়বাড়িয়া গ্রামে অর্থের বিনিময়ে পরকীয়ার ঘটনায় এক মুসলিম গৃহবধূ ও হিন্দু ছেলেকে মাতবররা মারপিটের পর গ্রাম ছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে গ্রাম্য মাতবররা গৃহবধূর স্বামী ভ্যানগাড়ি চালক জাহাঙ্গির আলম চঞ্চলকে বিচার করে দেবে বলে হয়রানি করছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের দবির মণ্ডলের ছেলে ভ্যানগাড়ি চালক জাহাঙ্গির আলম চঞ্চল মুঠোফোনে জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত-আনন্দ সরকারের ছেলে শ্রী সজল সরকার আকাশের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’বছর আগে আকাশ বিদেশ চলে যায়। সম্প্রতি সে গ্রামে এসেছে। গ্রামে আসার পর আকাশ তার স্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপন করে। রোরবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরে তার স্ত্রী নেই। পরে ছোট ভাইসহ তার স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে আকাশের সঙ্গে অবস্থান করছে। পরবর্তিতে বিষয়টি গ্রামের মানুষরা জানার পর তার স্ত্রী ও ছেলে আকাশকে আটকে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি বেদম মারপিট করে।
এর কিছু সময় পর গ্রামের মাতবর নবীর উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ আরো অনেকে বিচার করে দেওয়ার কথা বলে গোপনে তার স্ত্রী ও আকাশকে গ্রাম থেকে পালিয়ে দেয়। এরপর তিনি ওই রাতেই অভিযোগ করার উদ্দেশ্যে থানায় গেলে পরকীয়া বিচারের কোন ধারা নেই মর্মে অভিযোগ গ্রহণ হয় না। পরের দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুনরায় থানায় গেলে থানার ওসি চঞ্চলকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। ঘটনার পর থেকে গ্রামের মাতবরদের কাছে গেলে আজ বিচার করে দিবে কাল বিচার করে দেবে বলে হয়রানী করছেন বলে জানিয়েছেন ভ্যানচালক চঞ্চল।
অপরদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের মাতবর নবীর উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ কতিপয় ব্যক্তি পরকীয়ার এই ঘটনার বিষয়টি সব কিছু ম্যানেজ করে মিটমাট করে দেওয়ার নামে ছেলে আকাশের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার দিন রাতে উপজেলার রেলগেট এলাকার ফারুক, আজাদ, রায়হানুল ইসলাম বাহিনী গ্রামে গিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার কথা বলে ছেলের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৩ হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান বিষয় পোস্ট করার কারণে বর্তমানে বিষয়টি শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলমান ও হিন্দু ধর্মের এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গ্রামের কতিপয় মাতবর ও ব্যক্তিরা ঘোলা পানিতে অবৈধ ফায়দা লুটার সুযোগ গ্রহণ করেছে বলে স্থানীয় ভাবে জানা গেছে। অপরদিকে ঘটনার পর থেকে গৃহবধূ ও ছেলে আকাশ পলাতক রয়েছে।
গ্রামের মাতবর নবীর উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, পুরো গ্রামের বাসিন্দারা যা চেয়েছেন তা করা হয়েছে। ছেলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। কে বা কারা টাকা নিয়েছে তা তিনি জানেন না। তারা চেষ্টা করেছেন গ্রামে বসেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধান করার। এরপর নবীর উদ্দিন আর কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, পরকীয়ার বিষয়ে কোন মামলা গ্রহণের সুযোগ না থাকার কারণে ভুক্তভোগী চঞ্চলকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেছি। এছাড়া চঞ্চল চাইলে তার স্ত্রী কোথায় আছে তাকে খুঁজে বের করার বিষয়ে সহযোগিতা করার কথা জানান ওসি।