মহিলা পরিষদের কর্মিসভা অনুষ্ঠিত
মহিলা পরিষদ, রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে নবগঙ্গা গ্রাম কমিটিতে সাংগঠনিক মাস পালন উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এক কর্মী সভার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪ টায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার।
তিনি বলেন, ০১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর’২৬ পর্যন্ত সাংগঠনিক মাস পালন করা হচ্ছে। এই সময় পাড়ায় মহল্লায় গিয়ে সদস্য বৃদ্ধি ও নবায়ন করা হচ্ছে।। তিনি সকল সদস্যকে সংগঠনের ঘোষণা পত্র ও গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়তে বলেন। নারীরা নিত্যদিন বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং এর প্রতিবাদে নারী সমাজ তথা নারী আন্দোলনকে আরো সচেতন হতে হবে। সমাজকে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিরসনে যুক্ত করার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং পাশাপাশি সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে হবে।
অন্যানদের মধ্যে আলোচনা করেন, নবগঙ্গা গ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুফিয়া হাসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক নিলুফার আহমেদ। সভাটি পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক, আলিমা খাতুন।
সভায় সভাপতি বলেন, “বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি।”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আমরা সাংগঠনিক মাস পালন করছি। বর্তমানে নারীর কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক নেতৃত্বে সক্রিয় অংশগ্রহন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজমান। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীরা অর্থনৈতিক সংকট, সহিংসতা ও সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতিক সময়ে নারী বিদ্বেষী প্রচারণা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে নারীদের আবার ঘরে বন্দী করার জন্য নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্ন অপতৎপরতা আমরা লক্ষ্য করছি। নারীরা নিত্যদিনই বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সমাজে নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে, সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করছে। কিন্তু সমাজের একটি মহল নারীর এই অর্জনকে অবদমিত করার লক্ষ্যে নারী বিদ্বেষী, প্রচারণা বৃদ্ধি করছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নারীর অগ্রসরমান অবস্থা ধরে রাখা,সংহত করার জন্য আমাদেরকে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক,মানবিক মানসিকতার চর্চা করতে হবে। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী আন্দোলন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিমূখী এবং আরো শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রুপান্তরিত করতে হবে।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে সংগঠনের আদর্শকে সমুন্নত রাখা, তণমূলসহ সকল পর্যায়ের তরুণ নেতৃত্বকে সংগঠনে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।