বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পত্নীতলায় মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দোকানপাট লুটের অভিযোগ!

পত্নীতলা প্রতিনিধি ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পত্নীতলা প্রতিনিধি ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন
পত্নীতলায় মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দোকানপাট লুটের অভিযোগ!

নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর পৌর এলাকার পাবলিক মাঠে গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারির ড্র শুরু করতে অতিরিক্ত দেরি করায় উত্তেজিত জনতা মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এসময় বেশ কিছু দোকানের মালামাল হরিলুট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 


স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত ১২টা থেকে রাত ১টা পেরিয়ে গেলে মেলার শেষ সময়ে এসে লটারির ড্র অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 


প্রশাসনের অনুমতি শর্ত অমান্য করে ওই লটারি পরিচালনা ও গানবাজনা করার অভিযোগ রয়েছে মেলা কমিটির বিরুদ্ধে। 


উপজেলার সাপাহার রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এই মাঠে মাসব্যাপী গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বসানোর ‘অনুমতি’ দিয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসন। আর খেলার মাঠটি প্রতিদিনের জন্য ২০০০ টাকায় মেলার জন্য ভাড়া দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা, পত্নীতলা উপজেলা শাখা।


যদিও খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খেলার মাঠ অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না৷ এই আইন লঙ্ঘনে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় সাজার বিধান আছে।


উত্তেজনার কারণ: মেলা কমিটি নির্ধারিত সময়ে লটারির ড্র (র‌্যাফেল ড্র) শুরু না করে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করায় টিকিট ক্রেতা ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। 


ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা: মেলা কমিটির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে না পেয়ে উত্তেজিত জনতা মেলার বিভিন্ন স্টল, প্যান্ডেল এবং অবকাঠামোতে ভাঙচুর চালায়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি দোকানের মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ উঠেছে। 


উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


এমতাবস্থায়, স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তারা মেলার আয়োজক কমিটির দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খানের দলীয় কমিটির কয়েকজন বিএনপির নেতারা ওই মেলাটি নিয়ন্ত্রণ করছিল। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ কেউই মুখ খোলেননি।