বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বগুড়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়া প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
বগুড়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার শেরপুরে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে সামেয় ট্রাভেলস ও ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ।  শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে শেরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দাবি, চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের হুমকি দেন। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও রাফাতের বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢোকে। তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাঁর সন্তানদের খোঁজ করে এবং কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের শাটার নামিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর ব্যাগে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।


আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। যুবদলের নাম ব্যবহার করে সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া-বাণিজ্য করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।


তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি বগুড়া শহরে ছিলাম। সেখানে চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, আরফান ও আবদুল মান্নানরা স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন। আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন সেখানে চাঁদার কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করতেই এই ভিত্তিহীন এজাহার দায়ের করা হয়েছে।


এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে শুক্রবার দিবাগত রাতে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।