বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

বগুড়া প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৫ অপরাহ্ন
বগুড়ায়  ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বগুড়ায় তিন মাসব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশব্যাপী এই বিশেষ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।


কেন্দ্রীয় উদ্বোধনের পরপরই বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরের ব্যস্ততম চারমাথা এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সাহেব মাহমুদ। এছাড়া স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।


একই দিনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে বগুড়ার শেরপুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় সড়ক, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।


উদ্বোধন শেষে বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি থেকে ধুনট মোড় পর্যন্ত মহাসড়ক এবং পৌরসভার বারোদুয়ারী হাট ও বিকালবাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।


অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবুর রহমান হারেজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, সমাজসেবা অফিসার নাইম হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম। অভিযানকালে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।


যেভাবে এডিস মশার উৎপত্তি ও বিস্তার করে: জমে থাকা পরিষ্কার পানি: এডিস মশা সাধারণত ড্রাম, ফুলের টব, ডাবের খোসা, টায়ার বা পরিত্যক্ত পাত্রে তিন দিনের বেশি জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে লার্ভা এবং লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নিতে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে।


ডেঙ্গুর দ্বারা যে সব ক্ষতি হয: এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে। এর ফলে তীব্র জ্বর, শরীর ও হাড়ে মারাত্মক ব্যথা এবং প্লাটিলেট (রক্তকণিকা) দ্রুত কমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়।


সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’ হয়ে রোগীর প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে।

যেভাবে ডেঙ্গু ও লার্ভা বিনষ্ট করা যাবে: শুধু উড়ন্ত মশা মেরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; মূল উৎস অর্থাৎ পানিতে থাকা লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।


বাসাবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং সপ্তাহের অন্তত একদিন নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখাই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার মূল উপায়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত অতিথিরা সর্বস্তরের জনগণকে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এই তিন মাসব্যাপী অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।