বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

হার্ডিঞ্জব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই গ্রামে গ্রামে ডুবছে ফসল : ভাঙছে নদীর পাড় : আতঙ্কে গ্রামবাসী

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
হার্ডিঞ্জব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই গ্রামে গ্রামে ডুবছে ফসল : ভাঙছে নদীর পাড় : আতঙ্কে গ্রামবাসী

পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মায় হুহু করে বাড়ছে পানি। পানি পরিমাপের স্থান হার্ডিঞ্জব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বন্যার পানি। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে ৭৫ হেক্টর জমির সব্জির ক্ষেত এবং কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন শত শত গ্রামবাসী। নদী ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে গ্রামবাসীর।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে ৫ হেক্টর মুলা ও ৫ হেক্টর গাজরের ক্ষেত এবং আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে ও কলাবাগানসহ ৭৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষেতে বন্যার পানি উঠেছে। উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বন্যার পানি সাঁড়া ও সাহাপুরের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।


বিশেষ করে সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর পাড় সংলগ্ন ইসলাম পাড়া, সাঁড়া ঘাট এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের উঁচু রাস্তা অতিক্রম করে লোকালয়ে পানি এসে ঢুকেছে। নদীর বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙনের ফলে নদীর পাড় এলাকার গ্রামবাসী আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনা পর্যন্ত নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করতে দেখা গেছে গ্রামবাসীকে। সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, পদ্মার পানি বাড়ার কারনে আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া, ইসলামপাড়া গ্রামের মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন নদীতে বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যায় এ আশঙ্কায় এসব গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ রাত জেগে বসে থাকছেন নদীর পাড়ে। সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে এসে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষক ও গ্রামবাসীর। 


জানা গেছে, উজানের ঢল, বৃষ্টিপাত ও উত্তাল পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ গত কয়েকদিন ধরে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। কখনো একটু কম আবার কখনো বেশি হচ্ছে পদ্মার পানি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, রোববার পাকশীর পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।


এই পয়েন্টে বিপৎসীমার পরিমাপ ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। ফলে বিপৎসীমা থেকে মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এর আগে পদ্মার পানি পরিমাপক দল গত বৃহস্পতিবার এখানে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৮৮, শুক্রবার ১৩ দশমিক ০২, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ এবং গতকাল রোববার ১৩. ০৫ মিটার পর্যন্ত পানি প্রবাহের পরিমাপ রেকর্ড করেছে।


ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবদুল মমিন জানান, উপজেলার সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে ফসলের জমিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, পানি আর কিছুটা বৃদ্ধি পেলে এসব এলাকার আবাদকৃত শীতকালীন সব্জিসহ আগাম জাতের শাকসব্জি ও ফল ফসলের মাঠে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন বলেন, এই উপজেলার নিচু এলাকা ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন দুর্যোগ কমিটি’ হালনাগাদ করা হচ্ছে যাতে যে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদীর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।