বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ মাসে ৭০ জনের আত্মহত্যা

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৩ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ মাসে ৭০ জনের আত্মহত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৭০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে জেলায় মোট ১৮১টি অপমৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনায় তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। 


জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ১৮১টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ৭০টি। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে ১৫ জন ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৯ জন ৩১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১২ জন ৪৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৯ জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫ জন রয়েছেন।


পুলিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রেমঘটিত বিষয়, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অভিমান, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, মানসিক চাপ, আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝার মতো বিভিন্ন কারণে অনেকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ক্ষেত্রে সাময়িক মানসিক চাপ বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।


পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৭০টি আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পারিবারিক কলহ দাম্পত্য অসন্তোষ মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশার কারণে নারীদের একটি অংশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। পাশাপাশি আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। আত্মহত্যার পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। 


সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর আগে মনাকষা ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নেও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। 


চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা সাময়িক মানসিক সংকটের কারণে একটি সম্ভাবনাময় জীবন যেন শেষ হয়ে না যায়। শিশু-কিশোরদের আচরণে পরিবর্তন বা হতাশার লক্ষণ দেখা দিলে বকাঝকা না করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বলতে হবে।


তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শুধু সন্তানের ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর দিতে হবে। 


পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে হবে। কোনো পারিবারিক বিরোধ মানসিক সংকট বা হতাশার পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।