‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ছাদের ওপর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে’
অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে রাজশাহীতে ‘ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে স্থানীয় সরকারের পদক্ষেপ’ শীর্ষক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিবর্তন, ক্লিন আই বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট (বিডাব্লুজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নগরীর এস কে ফুড রেস্টেুরেন্টে এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায়, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলসেতারা চুনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ তৈয়বুর রহমান, পরিবর্তনের পরিচালক রাশেদ রিপন, সমন্বয়ক ও ক্যাম্পেইন ফ্যাসিলিটেটর হাসিবুল হাসান এবং ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট রনি রায়। এছাড়া রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি, সরকারি স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এসব ছাদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে নতুন জমি অধিগ্রহণ বা অতিরিক্ত ভূমি ব্যবহার ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তারা বলেন, ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাধীন সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সম্ভাবনাময় ভবন চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব। আলোচনায় ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ক্ষেত্রে ছাদের আয়তন ও অবস্থান, সূর্যালোকের প্রাপ্যতা, ছায়ার প্রভাব, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, সিস্টেমের সক্ষমতা, স্থাপনের মান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা শুধু বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নয়; এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করলে তা নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ভবন মালিকদেরও উৎসাহিত করবে।
কর্মসূচিতে ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা-এর প্রসারে সহজ অর্থায়ন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, মানসম্মত সৌর সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং প্রযোজ্য নেট-মিটারিং ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সংগঠন, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা রাজশাহী শহরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকেরা বলেন, “অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করলে একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ আরও সহজ হবে।”
কর্মসূচি শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা -এর সম্ভাব্যতা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।#