ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতা ও উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন মন্ডল (৫০) কে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পাঠশালা মোড়ে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
মহির মন্ডল পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অনুসারী সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চেয়ারম্যান মহির মন্ডল বিএনপির অপর গ্রুপের বহিস্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। বিএনপির পক্ষ পরির্বতনের কারনেও তার ওপর এ হামলা হতে পারে বলে ধারনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কয়েকজন ইউপি সদস্য ও পুলিশের ভাষ্য, মানিকনগর পাঠশালা মোড়ে এক ডিলারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিধবা নারীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছিল। চেয়ারম্যান হিসেবে সরেজমিনে তা পরিদর্শন করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
ছুরিকাঘাতে আহত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল মুঠোফোনে এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, সকালে ইউপি সদস্য আক্তারুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কর্মসূচী পরিদর্শনে পাঠশালা মোড় এলাকায় যান তিনি। সেখানে পৌঁছার পর রিপন নামের এক যুবক মোটর সাইকেলে এসে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত ও আচমকা তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করার পর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করেন।
এ সময় তিনি প্রাণভয়ে দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত যুবক মো. রিপন সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা। হামলার পর থেকে ওই যুবককে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। হামলার সময় রিপন তাকে এবং সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য স্বপন হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মহির মন্ডল। এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি গ্রাম্য সালিশ চলাকালে মহির মন্ডলসহ গ্রাম পুলিশের ওপর কয়েকজন যুবক হামলা করেছিলেন। সে হামলার সময় রিপনও জড়িত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মহির মন্ডল এখন আশঙ্কামুক্ত। ছুরিকাঘাতের জায়গায় কয়েকটি সেলাই করা হয়েছে। হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, আহত মহির মন্ডল ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাস্থলে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।