মানুষের জায়গা কি কেড়ে নেবে এআই?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আশঙ্কার কথা শোনালেন মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেমান। তাঁর স্পষ্ট সতর্কবার্তা, পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এআই-এর এই অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ভবিষ্যতে এমন এক নতুন “সিলিকন প্রজাতি”র জন্ম দিতে পারে, যা টিকে থাকার লড়াই ও সম্পদের ভাগ নিয়ে সরাসরি মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে। বিবিসি-র একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের এই প্রযুক্তি নিয়ে শঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক, তবে মানুষের হাতে এখনও এমন কার্যকর পথ রয়েছে যার মাধ্যমে এই প্রযুক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সুলেমান বিশেষ করে সতর্ক করে বলেন, এমন কোনও কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করা একেবারেই উচিত হবে না যা নিজের লক্ষ্য নিজে নির্ধারণ করতে পারে, অর্থ উপার্জন করতে পারে কিংবা নিজস্ব সম্পদের মালিক হতে পারে। যদি প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এমন সিস্টেম তৈরি অব্যাহত রাখে, তবে তা কার্যত এক নতুন সিলিকন প্রজাতিরই উদ্ভব ঘটাবে, যা পরবর্তীতে মানুষের অস্তিত্ব ও সম্পদের ওপর অধিকার ফলাবে—তা সে মানুষের প্রতি যতই সহমর্মিতা প্রকাশ করুক না কেন। এই প্রসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘অ্যানথ্রপিক’-এর কাজের ধারার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাদের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লড’-কে এমনভাবে মানুষের রূপ বা মানবিক গুণাবলী দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে যেন এর নিজস্ব ইচ্ছে, মূল্যবোধ বা আত্মচেতনা রয়েছে। এই প্রবণতাকে “ভ্রান্ত” আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এআই-কে মানুষের সমকক্ষ ভাবলে এমন এক শক্তি তৈরি হবে যাকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নিজের প্রকাশিত এক প্রবন্ধে মাইক্রোসফট কর্তা মনে করিয়ে দেন, এআই কখনোই কোনও সজ্ঞান বা সচেতন সত্তা নয়; এদের কোনও অনুভূতি, কষ্ট বা নিজস্ব লক্ষ্য থাকে না। এরা মূলত মানুষের নির্দেশ পালনকারী এবং মানুষের ঠিক করে দেওয়া লক্ষ্য পূরণকারী একটি জটিল গাণিতিক ব্যবস্থা মাত্র। তাই নিজেদের অজান্তেই যাতে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয় যা নিয়ে ভবিষ্যতে তীব্র অনুশোচনা করতে হবে, তার জন্য এআই তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ নজরদারি এবং প্রযুক্তিকে মানুষের “অধীনস্থ” রাখার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের সেবায় সীমাবদ্ধ থেকে কাজ করবে এমন এক “হিউম্যানিস্ট সুপারইন্টেলিজেন্স” গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে যতই শক্তিশালী করা হোক না কেন, চূড়ান্ত কর্তৃত্ব যেন সবসময় মানুষের হাতেই থাকে।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন