গুরুদাসপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০
নাটোরের গুরুদাসপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের নারী পুরুষসহ ১০ জন আহত হয়েছে । শনিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে ময়লালের অবস্থা সংকটাপন্ন।
সংঘর্ষে সাইফুলের পক্ষে মৃত আসকান সরদারের ছেলে সাইদুল( ৫৪), রমিজুল ( ৩৮), রফিক ( ৪৫), মৃত জয়নালের ছেলে হাকিম ( ৩৮) ও মৃত খাজা আলমের ছেলে বাবুলাল ( ৩৯)।
অপর পক্ষের আহতরা হলেন, ময়লাল ( ৫৫) সোহেল রানা(৩০), শরীফা ( ৪৫) সুলতান( ৪০), জাহানারা ( ৪০) ডাবলু ( ৩৫)।
জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ও ময়লালের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মামলাও চলমান রয়েছে। শনিবার দুপুর ১১ টার দিকে দখলে থাকা সড়ক সংলগ্ন একটি জায়গাতে বেড়া দেওয়ার কাজ করতে থাকে ময়লাল। এটা জানার পর সাইফুল গিয়ে বেড়া দিতে নিষেধ করে। শুরু হয় কথা কাটা- কাটি। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিশেঠা নিয়ে চলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।
সাইফুল বলেন, মামলা চলমান জায়গাতে দলবল নিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজ করতে থাকেন ময়লাল। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে ময়লালকে বেড়া দেওয়ার কাজ বন্ধ করতে বলি। এটা বলাতেই আমার উপর চড়া হয়। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিশেঠা নিয়ে আমার উপর আক্রমন করে। আমি দৌড়ে সেখান থেকে চলে আসি। পরে দলবল নিয়ে আমার বাড়ীর দিকে তেড়ে আসলে আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করি।
আহত ময়লালের ছেলে সোহেল রানা বলেন, মামলাতে রায় পাওয়া দখলে থাকা জমিতে বেড়া দেওয়ার কাজ করতে ছিল আমার বাবা ময়লাল। হঠাৎ করে সাইফুল তার দল নিয়ে আমার বাবার উপর আক্রমন করে। এ খবরে আমি সেখানে উপস্থিত হই। তখন আত্মগোপনে থাকা সাইফুলের লোকজন লাঠিশেঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে। আমাকে ও বাবা ময়লালকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে সেখানে কি ঘটেছে আমি বলতে পারবো না।
ওসি আব্দুল হান্নান বলেন,থানাতে উভয় পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।