মহিলা পরিষদের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করি, সচেতন সমাজ গড়ে তুলি।’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে-মাধবপুর গ্রাম কমিটিতে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ-সাধারণ সম্পাদক নিলুফার আহমেদ।
পরিচালনায় ছিলেন কার্যকারী কমিটির সদস্য তাহেরা খাতুন। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা করেন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিনা বানু, মাধবপুর গ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরা বেগম প্রমুখ।
এই সভার আলোচ্য বিষয় ছিল, সংগঠনের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র, বাল্যবিবাহ কি? বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়।
এই সভায় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায় বলেন, আমরা সাংগঠনিক মাস পালন করছি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে আমরা ১০ টি মূলনীতি মেনে কাজ করে থাকি । যা আমাদের সকলকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে ১. সংগঠনের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে কাজ করা ২.অংশ গ্রহণ মুলক পদ্ধতিতে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। ৩. স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করা। ৪. নির্দলীয় অবস্থান । ৫.কাজের গতিশীলতা রক্ষা করা । ৬. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা । ৭. নারী উন্নয়নের অঙ্গীকার বদ্ধতা ৮. সমতায় বিশ্বাসী। ৯. নেটওয়ার্কিং ১০. সংগঠনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সংগঠনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
তিনি আরো বলেন বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে উত্তরণের উপায় অভিভাবককে সচেতন হওয়া। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চারটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন বিষয়গুলো হলো ১. নারীর ক্ষমতায়ন ২. নারীর প্রতি পরিবার ও সমাজের সচেতনতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ৩. নারীর কর্মসংস্থান ৪. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর আইন ও তার প্রয়োগ । বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হলো মেয়েদের নিরাপদ পথ চলা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহনকে নারীবান্ধব ও যৌন হয়রানি মুক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে সমাজের নারীদের শিক্ষা অর্জন করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকরা কন্যা সন্তানকে বোঝা না মনে করে তাদেরকে শিক্ষা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নারীদের সম্মান দিতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি সকলে এগিয়ে আসলে আমরা এই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো।