বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনে রাবিতে প্রথমবার ‘কারাম পূজা’

রাবি প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনে রাবিতে প্রথমবার ‘কারাম পূজা’

‎কারাম গাছের ডাল ঘিরে নেচে-গেয়ে মঙ্গল কামনা ও ভালো ফসলের প্রত্যাশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছে ওরাঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম পূজা’। দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন।


‎‎উৎসব উপলক্ষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি র‌্যালি বের করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আয়োজকরা।


‎‎উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ওরাঁও সম্প্রদায়ের কাছে কারাম বৃক্ষ পবিত্রতা, কল্যাণ ও মঙ্গলের প্রতীক। প্রাচীনকাল থেকে বংশপরম্পরায় আশ্বিন মাসের শুরুতে এ পূজা ও সামাজিক উৎসব পালন করে আসছেন তারা।


‎‎উৎসবের রীতি অনুযায়ী, নারী-পুরুষ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে নেচে-গেয়ে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নৃত্য, সংগীত ও লোককাহিনি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের মূল পর্ব। এ সময় নারী-পুরুষ রঙিন পোশাকে সারিবদ্ধ হয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন।


‎‎ওরাঁও সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, কারাম পূজার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবন্যা ও খরা থেকে মুক্তি, ভালো ফসল এবং পরিবার ও সমাজের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উৎসব উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল ও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।


‎‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছবি বীর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমতলের আদিবাসীরা প্রথমবারের মতো এই উৎসব উদযাপন করছি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সাড়া ও ইতিবাচক পরিবেশ পেয়ে আমরা সত্যি আনন্দিত।”


‎‎স্থানীয় বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী লালু সরদার বলেন, “কারাম পূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান উৎসব। এই পূজা বা উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবার ও সম্প্রদায়ের মঙ্গল কামনা করা। এটি পালনের মাধ্যমে আমাদের বাড়ি-ঘর, ছেলে-মেয়ে এবং পরিবার-পরিজন রোগব্যাধি ও নানা বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকে।”


‎‎বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের (ওঁরাও বিডি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী বলেন, “ওরাঁও সম্প্রদায়ের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করাই মুলত এই উৎসবের মূল উপজীব্য। আগের চেয়ে উৎসবের আমেজ বা উদ্দীপনা কোনো অংশে কমেনি, বরং সমতল ভূমির আদিবাসীদের মধ্যে এটি পালনের আগ্রহ ও সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে।”


‎‎আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপানারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে অনেক পিছিয়ে পড়বেন। তাই আপনারা ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন। সে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। সব দিকে পদচারণা যাতে থাকে। নিজেদের কখনো নিচু ভাববেন না। নিজেদেরকে তুলে ধরেন। নিজেদের তুলে ধরার মধ্য দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করেন।”