দোনইলে রাতের আঁধারে ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার দোনইল গ্রামে রাতের আঁধারে প্রায় ১০ থেকে ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কয়েকজন কৃষকের পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। জীবিকার প্রধান অবলম্বন পটলখেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা পটলখেতে পরিচর্যার কাজ করছিলেন। কেউ পটল তুলছিলেন, আবার কেউ পরাগায়নের জন্য পুরুষ ফুল সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে কৃষকেরা দেখতে পান, রাতের আঁধারে কে বা কারা ক্ষেতের প্রায় সব পটলগাছ কেটে দিয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা নিজ নিজ জমিতে ছুটে আসেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জমির আইলে বসে হতাশায় মাথায় হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের অভিযোগ, পটল বিক্রির আয় দিয়েই সংসারের খরচ চালান তারা। এক রাতের ঘটনায় তাদের পুরো বছরের শ্রম ও আয়ের আশা নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মুক্তাউল হোসেন বলেন, তাঁর ১৫ কাঠা জমির পটলগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পটল বিক্রির আয়েই তাঁর সংসার চলে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পটলখেতের দিকে তাকাতে পারছি না, শুধু কান্না আসে। কে আমাদের সর্বনাশ করল?”
স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সানাউলের ১০ কাঠা, আজিজুলের ৮ কাঠা ও সোলাইমানের ১৫ কাঠা জমির পটলগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ বিঘা জমির পটলগাছ নষ্ট হয়েছে বলে তারা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। পটলের ওপর নির্ভর করেই আমাদের সংসার ও হাটবাজারের খরচ চলে। এখন সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যারা এ কাজ করেছে, তারা শুধু পটলগাছ কাটেনি, কৃষকের গলা কেটেছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আল এমরান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি জানার পর ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”