বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রামে বিভিন্ন স্থানে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

নাটোর প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রামে বিভিন্ন স্থানে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশ ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের বেশ কিছু অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


নাটোরকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এই মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই মহাসড়ক।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দেয়। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের প্রায় ১৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


ভাঙন ঠেকাতে কোনো কোনো স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থায়ীভাবে সংস্কার না করে এভাবে বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের পোল উল্টে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলতি বছর শেষ হয়েছে। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি সেতুর নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।


কয়েকটি প্যাকেজে ভাগ করে মহাসড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট, সড়ক প্রশস্তকরণ ও সেতু নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সড়ক নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।


স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান যাচাই করে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমি অল্প কিছুদিন হলো নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”