রামেক হাসপাতালে ১১ দিনে ৬ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেল ১১ দিনে ছয়জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এ মাসের ২০ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৩৯৪ জন রোগী। সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন ৩২৭ জন রোগী। ছাড়া পাওয়া রোগীরা মধ্যে কিছু রোগী আগস্ট মাসে ভর্তি হয়েছিলেন।
এদিকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আরও এক রোগী মারা গেছে। এই রোগীর নাম সাথী রাণী (১৬)। সে বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। সাথী রাণীকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ভর্তি হন। মারা যান রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে।
এছাড়াও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আরেক রোগী মারা যান। এই রোগীর নাম আনোয়ার মন্ডল (৫২)। নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাসিন্দা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ২১ মিনিটে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে মারা যান পাবনার বেড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরুল কায়েস হৃদয় (২৬)। ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মারা যান নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা জিত সরকার (২২)। ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ১০ মিনিটে মারা যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের বাসিন্দা হৃদয় (২৪)। ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় মারা যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা আসমা খাতুন (৩৫)। এরা সবাই স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়ে এসেছিলেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম বলেন, সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে আমরা ডেঙ্গু রোগী বেশি পাচ্ছি। প্রতিদিন গড়ে ২০ জন করে ভর্তি হচ্ছেন। আবার সুস্থ হয়ে ফিরেও যাচ্ছেন। ডেঙ্গু সন্দেহের রোগীরা প্রাথমিকভাবে মেডিসিন ইউনিটে ভর্তি হন। পরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ফলাফল এলে তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়।
২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আইসোলেশনে ১৬টি আসন রয়েছে। এ ছাড়াও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশকে আইসোলেশন করা হয়েছে। প্রয়োজনে রোগী বৃদ্ধি পেলে আরও শয্যা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১০৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে রাজশাহীর রোগীর হার প্রায় ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীর হার ৩৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ রোগী নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা থেকে ভর্তি হয়েছেন।